নয়াদিল্লি : মে মাসে বিবৃতি দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। জানানো হয়েছিল ভারতীয় ভূখন্ডে ঢুকে এসেছে চিনা সেনা। তবে সেই বিবৃতি বৃহস্পতিবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। প্রতিরক্ষা নথি হিসেবে এই তথ্য রাখা হবে না বলেই জানানো হয়েছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। মে মাসে এই বিবৃতি প্রকাশের পর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়।

উল্লেখ্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি সরানো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁদের দাবি এই প্রথম চিনা সেনার ভারত ভূখন্ডে ঢুকে পড়ার বিষয়টি অস্বীকার করল মোদী সরকার।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি কিছুটা সুর নরম করেই এই কাজ করেছে ভারত। মোদী সরকার মে মাসে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব ছিল। সেই আগ্রাসন (aggression) শব্দটির বদলে ব্যবহার করা হয়েছে ‘অতিক্রম’।  এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। তিনি বলেছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সরকারি ভাবে বিবৃতি দিলেও, প্রধানমন্ত্রী মোদী আশ্চর্যজনক ভাবে এই বিষয়ে চুপ। ঠিক কি ঘটনা ঘটেছে, তা দেশ জানতে চাইছে।

এরপরেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই পদক্ষেপ জল্পনা বাড়াচ্ছে। ২০২০ সালের ৫ই মে চিনা সেনার প্যাংগং লেকের সীমান্তে ঢুকে পড়ার ঘটনার বর্ণনা ও উল্লেখ ছিল ওয়েবসাইটে। এও জানানো হয়েছিল মে মাসের ১৭-১৮ তারিখে কুংরাং নালা, গোগরা ও প্যাংগং-য়ে চিনা আগ্রাসনের খবর মিলেছে।

এদিকে, এই বিবৃতিতে ভারত ও চিনের সামরিক স্তরের বৈঠকের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ইন্ডিয়া টুডের সূত্র বলছে এদিনের বৈঠকের আলোচ্য বিষয়ে কোনও আলোকপাত করা যায়নি। একদিকে যখন চিন একাধিক বার ভারতের সঙ্গে বৈঠকে বসছে, তখন নতুন করে সীমান্তে চিনা সেনার আনাগোনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চিনের এই দ্বৈত মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেছে নয়াদিল্লি। একাধিক মিডিয়া রিপোর্ট বলছে উত্তরাখণ্ডের ওই এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছে বেজিং।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে চতুর্থ দফার বৈঠকে প্যাংগং নিয়ে কথা বলতে চায়নি চিন। ফলে এই ইস্যুতে চিনা সেনার অবস্থান ও সেনা সরানো নিয়ে জটিলতা থেকেই গিয়েছে।

রবিবার ফের বৈঠকে বসে দুই দেশের উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিকরা। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, মলডোয় কমান্ডার পদের এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় প্যানগং-গোগড়ার বর্তমান পরিস্থিতি। চিন আগে প্যানগং ও গোগড়া থেকে সেনা সরানোর কথা বললেও বৃহস্পতিবার ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই দেশই সম্মতি দিলেও এখনও পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করেনি চিন। মার্চের পর থেকে এই নিয়ে পঞ্চম দফা বৈঠক হয় চিনের সঙ্গে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও