ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাতের সময় থেকেই উত্তপ্ত লাদাখ। রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একমাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক নয়। তাই চিনের বিরুদ্ধে মোকাবিলার জন্য ভারতীয় সেনার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এবং লাদাখের বর্তমান অবস্থার খোঁজ নিতে পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

বুধবার একটি সরকারি সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। যেহেতু সীমান্তের সবকটি ফ্ল্যাশপয়েন্ট থেকে যৌথভাবে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে, এমন প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শুক্রবার সফর করতে চলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

জুলাই মাসের ১৭ তারিখের এই সফরে রাজনাথ সিং-য়ের সঙ্গে থাকবেন চিফ-অফ-আর্মি-স্টাফ জেনারেল এমএম নারাভানে। লাইন-অফ-অ্যাকচুয়াল-কন্ট্রোলে মে মাসের ৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই সীমান্ত সংঘাতের পর থেকে এই প্রথমবার তিনি সেখানে যাচ্ছেন বলেই জানা গিয়েছে।

সীমান্ত সংঘর্ষের পরে কিছুদিন আগেই লাদাখের নিমু সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সীমান্তে দাঁড়িয়ে চিনের নাম না করেই পড়শি দেশকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে। ভারতীয় সেনাদের জন্য উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র আমদানি করা হচ্ছে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেহ ও লাদাখ পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে সেনাবাহিনী ও ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁদের মনোবল বাড়ান। দেশের জন্য যে ২০ জওয়ান শহিদ হয়েছেন তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।

সুত্রের খবর, সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখবেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সঙ্গে থাকবেন জেনারেল নারাভানে,নর্দার্ন আর্মি কম্যান্ডার লিউটিন্যাণ্ট জেনারেল যোগেশ কুমার যোশি, ১৪ করপ্স কম্যান্ডার জেনারেল হরিন্দর সিং এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিক।

জুলাই মাসের ৩ তারিখই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে লাদাখ পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। তবে জরুরি বৈঠকের জন্য তা বাতিল করেন তিনি।

মে মাসের ৫ তারিখের পর থেকে টানা আট সপ্তাহ ধরে ভারত-চিন বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার মুখোমুখি সংঘাতে এসেছে। জুন মাসের ১৫ তারিখের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ২০ জন জওয়ান শহিদ হওয়ায় পরিস্থিতির চাপ আরও বেড়ে যায়। তবে কূটনৈতিক এবং মিলিটারিস্তরের একাধিক বৈঠকের পরে দুই তরফ থেকেই সেনা সরানোয় সম্মতি দেওয়া হয়। জুলাই মাসের ৬ তারিখ থেকে ধাপে ধাপে সেনা সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

গতকাল অর্থাৎ জুলাই মাসের ১৪ তারিখ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরানোর পরবর্তী ধাপ নিয়ে মঙ্গলবার চুশুলে চতুর্থ কোর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকে বসেছে ভারত এবং চিন। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ফিঙ্গার এরিয়া এবং ডেসপ্যাং এলাকায় উত্তেজনা প্রশমন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারের বৈঠকে ভারত চিনকে সোজাসাপটা শক্তিশালী বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ