তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী, কলকাতা: শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন অনেকেই। ডায়েট, এক্সারসাইজে নিজেকে ঠিক রাখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে। কিন্তু মানসিক রোগ নিয়ে এখনও ভাবেন না একটা বড় অংশের মানুষ। সেই রোগ চোখে দেখা যায় না। কিন্তু একটু একটু করে একজনকে শেষ করে দেয়। শারীরিক রোগের মতই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় মানসিক অবসাদ। বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু, সেটাই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

তবে এর আগেও বহু সেলেব্রিটি ডিপ্রেশনের স্বীকার হয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম দীপিকা পাডুকোন। বলিউডের দীপিকার সাফল্য আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। একের পর এক ব্লকবাস্টারের পরও মানসিক অবসাদে ভুগেছেন তিনি। তাই একাধিকবার দীপিকা এই বিষবে মুখ খুলেছেন। এমনকি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। Live Love Laugh foundation নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে সেই সচেতনতার প্রচার চালান দীপিকা।

সুশান্তের মৃত্যুতে ইনস্টাগ্রামে মানসিক স্বাস্থ্যের কথাই লিখেছেন অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘মানসিক সমস্যায় আমিও ভুগেছি। আমি জানি কথা বলাটা কতটা জরুরি। কথা বলুন। নিজেকে প্রকাশ করুন। প্রয়োজনে সাহায্য চান। মনে রাখবেন আপনি একা নন। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। আর সবথেকে বড় কথা সবকিছুর শেষে আশা আছে।’

তারকা ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার প্রকাশ পাডুকোনের এয়ে দীপিকা। অল্প বয়সেই নিজের স্বপ্ন পূরণে পাড়ি দিয়েছিলেন মুম্বই। প্রথমে মডেলিং ও পরে অভিনয়ে সফল কেরিয়ার। বলিউডে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র বলা যেতে পারেই। খ্যাতি, টাকা সবকিছুতেই অনেককে ছাপিয়ে সফল তিনি। অথচ সেই মেয়েটিই অবসাদে ভোগেন! বিশ্বাস করতে অসুবিধা হলেও এটাই সত্যি।

তখন তিনি খ্যাতির শীর্ষে। হাতে সিনেমার অভাব নেই। হঠাৎ একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান দীপিকা। বাড়ির পরিচারিকা এসে উদ্ধার করেন তাঁকে। ডাক্তারের কাছে যান তিনি। দেখা যায় তাঁর রক্তচাপ ওঠানামা করছে।

কিছুটা ক্লান্ত লাগতে শুরু করে। বেশ কিছুদিন বাড়িতে ঘুমিয়েই কাটান তিনি। কোথাও বেরতেন না, কারও সঙ্গে দেখা করতেন না। ব্যাক্তিগত এবং পেশাগত ক্ষেত্রে যখন তাঁর সবথেকে বেশি খুশি থাকার কথা, সেরকম একটা সময়ে অবসাদে ভুগবেন, একথা নিজেও বিশ্বাস করতে পারেননি দীপিকা।

এরপর থেকেই সবকিছু বদলাতে শুরু করে। একা থাকলেই অজানা কষ্টে ভুগতে শুরু করেন তিনি। এরপর মুম্বইতে কিছুদিনের জন্য তাঁর পরিবারের সবাই আসেন। কাউকেই নিজের অবস্থার কথা বুঝিয়ে বলতে পারেননি দীপিকা। যেদিন পরিবারের সবাই চলে যাচ্ছে, সেদিন হঠাৎ কেঁদে ফেলেন তিনি।

যে মেয়ে এত সাহসী, তার চোখে জল ভাবিয়ে তুলেছিল মা উজ্জ্বলা পাডুকোনকে। তাঁর মা’ই সঠিক সময়ে বিষয়টা ধরতে পারেন। তিনিই এক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। পারিবারিক বন্ধু সেই চিকিৎসক দীপিকার গলা শুনেই বুতে পারেন, এটা ‘ডিপ্রেশন।’ এরপরই শুরু হয় চিকিৎসা।

পরে দীপিকা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অনেকেই ভুল ভাবেন। ভাবেন, খ্যাতি, অর্থ থাকলে অবসাদ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এটা আসলে একটা ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন। এটা কারও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে না।’ তাঁর কথায় অনেকেই এই অবসাদকে দুঃখ বলে ভুল করেন, কিন্তু এটা তা নয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।