স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শহরে এমন অনেক ঐতিহ্যপূর্ণ বাড়ি রয়েছে যা প্রমোটারের দখলে চলে গিয়েছে। সেইসব বাড়ি ভেঙে তৈরি হয়েছে বিশাল শপিংমল কিংবা ফ্ল্যাট। কিন্তু, কতদিন আর এইভাবে চলতে পারে! এর জন্য এগিয়ে আসতে হবে সচেতন মানুষকেই। এমনই এক নজির গড়লেন দেব সাহিত্য কুটিরের কর্ণধার রূপা মজুমদার। তাঁর একান্ত চেষ্টায় ঐতিহ্যমন্ডিত দেব সাহিত্য কুটির আজ হেরিটেজ মর্জাদা পেতে চলেছে।

রূপা মজুমদার বলেন, “খুব সম্প্রতি আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি। দেব সাহিত্য কুটিরের ঐতিহ্য বহুবছরের। ১৮৬০ সাল থেকেই আমাদের ব্যবসা ব্যবসা শুরু হয়। তখন অবশ্য দেব সাহিত্য কুটির নামে ব্যবসা হয়নি। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বড়দা প্রসাদ মজুমদার। তাঁর নামে নাম ছিল বিপিএম প্রেস। বড়দা প্রসাদ মজুমদারের প্রথম ছাপাখানার ব্যবসা শুরু করেন। সেই সময় বিদ্যাসাগরের বইপত্র এখান থেকে ছাপা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “পরে ওনারা নিলাম করে দেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমস্ত বইয়ের স্বত্ব। ১৯২৪ সালে দেব সাহিত্য কুটির নাম হয়। এখান থেকে ইংলিশ টু বেঙ্গলি এবং বেঙ্গলি টু ইংলিশ ডিকশনারি ছাপা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে শুরু করে ভাগবত পর্যন্ত ছাপা হয়। সেই সময়ের এমন কোনও সাংস্কৃতিক মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যাঁরা এ বাড়িতে আসেননি। তাই আমি চেয়েছিলাম এই বাড়িটাকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক। এ ব্যাপারে চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন খুব সাহায্য করেছেন।”

এমন ঐতিহ্যপূর্ণ বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করায় খুশি বহু মানুষ। এর জন্য রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের উদ্যোগকে তারিফ জানিয়েছে নানা মহল। বাড়িটির সঙ্গে বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির যোগ রয়েছে বলেছে বলেই চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন এগিয়ে আসেন। তিনি একটা সময় কলেজ রো-তে থাকতেন। সেই জায়গার পাশের পাড়াই ঝামাপুকুর লেন। ২১/১ ঝামাপুকুর লেনে দেব সাহিত্য কুটিরের অফিস। শুধুমাত্র এই কারণে হয়, নিজেদের সংস্কৃতি বাঁচাতেই বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করার ব্যাপারে চেষ্টা করেছিলেন শুভাপ্রসন্ন।

kolkata24x7-কে তিনি জানান, “বিদ্যাসাগরের বইপত্র ওখানেই প্রথম ছাপা হয়। কাজেই বাড়িটা ঐতিহ্যমন্ডিত। কিন্তু, জায়গাটা দেব সাহিত্য কুটিরের নিজেরদের জায়গা নয়। তারা বহুকাল ধরে ভাড়া আছেন। বাড়িওয়ালার নাতি-নাতনিরা আগামীতে বাড়িটাকে প্রমোটারের হাতে তুলে দিতে পারেন। দেব সাহিত্য কুটিরের এখনকার উত্তরাধিকারিণী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিচার করে দেখলাম বাড়িটাকে রক্ষা করা উচিৎ। তাই আমি হেরিটেজ ঘোষণা করার চেষ্টা করেছি। ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপিত হয়েছে। আমাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। যদি কেউ আপত্তি না করে তাহলে ওখানে হেরিটেজ ট্যাগ লাগিয়ে দেব আমরা।”