নয়াদিল্লি: একদিন আগেই টাকা ঋণ শোধ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন৷ আর একদিন পরেই সুর চড়িয়ে তাঁর দাবি অগাস্তা ওয়েষ্টল্যাণ্ড চপার কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ক্রিশ্চিয়ান মিচেলের প্রত্যার্পণের সঙ্গে তাঁর বিষয় গুলিয়ে ফেললে চলবে না৷ ভারত যেন কোনও ভাবেই এই দুটি ঘটনাকে এক করে না ফেলে৷ ট্যুইট করে এমনই দাবি পলাতক লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়ার৷

ইউপিএ সরকারের আমলে ৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকার অগস্তা চপারকাণ্ড হয়। অভিযোগ ওঠে ইতালিতে তৈরি এই চপার ভারতকে বিক্রি করতে টেবিলের তলা দিয়ে চুক্তি হয়েছে। ব্রিটেনের নাগরিক ক্রিশ্চিয়ান এই চপার দুর্নীতির অন্যতম কুশীলব বলে জানা যায়। মিচেলকে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন প্রভাবশালীদের পকেটেও একটা বড় অঙ্কের অর্থ এসেছিল বলেও অভিযোগ।

অগস্টা ওয়েস্টল্যান্ড ভিভিআইপি চপার কেলেঙ্কারিতে মধ্যস্থতাকারী বিতর্কিত ক্রিশ্চিয়ানকে মঙ্গলবার রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ নিয়ে যাওয়া হয় বিশেষ সিবিআই আদালতে৷ ক্রিশ্চিয়ানোকে দেশে ফেরানোর পরেই দাবি ওঠে বিজয় মালিকে দেশে ফেরানোর৷ এই প্রসঙ্গেই মুখ খোলেন মালিয়া৷ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর দেশে ফেরা আর ক্রিশ্চিয়ানোর দেশে ফেরার মধ্যে অনেক পার্থক্য৷ তিনি বারবার বলছেন টাকা ফিরিয়ে দেবেন৷ ভারতীয় মিডিয়া তাঁকে ভিলেন বানিয়ে রেখেছে৷ তিনি টাকা চুরি করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে৷ এই অবস্থান পরিষ্কার করা হোক৷

এর আগে, বিজয় মালিয়া জানিয়েছিলেন ঋণের আসল টাকা ব্যাঙ্কদের শোধ করে দেওয়া হবে৷ লন্ডন থেকে ট্যুইটারে এই প্রস্তাব দেন এই ঋণ খেলাপি ব্যবসায়ী৷ ঋণ নিয়ে টাকা ফেরৎ না দেওয়া সহ তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন গোয়ান্দাদের চোখে ফেরার ওই ব্যবসায়ী৷

তার এই অবস্থার ট্যুইটারে দেশের রাজনীতি ও সংবাদ মাধ্যমের একাংশকে দায়ী করেন বিজয় মালিয়া৷ তাঁর অভিযোগ, ‘‘ভারতের রাজনীতিবিদ ও সংবাদ মাধ্যমের একাংশ আমার গায়ে চোরের তকমা সেঁটে দিয়েছে৷ বলছে আমি টাকা ঋণ করে পালিয়েছি৷ যা একেবারেই মিথ্যা৷ আমি টাকা ফেরৎ দিতে প্রস্তুত৷’’ এক্ষেত্রে তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টের রফাসূত্রের কথা উল্লেখ করেন৷ তাঁর দাবি, ‘‘কর্ণাটক হাইকোর্ট টাকা ফেরতে যে রফাসূত্রের কথা বলেছিল তা কার্যকর হলে কোনও অসুবিধাই হত না৷’’