সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ওরা সাজতে চায়, দুটো ভালো খেতে চায়, নিতে চায় পুজোর আনন্দ। কিন্তু বাস্তব বড়ই কঠিন। বারবার হাতে ধরিয়ে দেয় ভিক্ষার পাত্র। ওরা খেতে না পাওয়া অভাগার দল। স্বাদ আহ্লাদের অধিকার ওদেরও আছে। কিন্তু সে সব মেলে কই? ওদের কথাই বলবে বেহালা দেবদারু ফটক। প্রার্থনা, এই পুজোর পর যেন তাঁদের জীবনে রাস্তার কালো নয় নিয়নের আলো ফুটে ওঠে।

‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়’। কবি সুকান্তে ভট্টাচার্যের ঠিক এই কবিতাই হয়ে উঠেছে বেহালা দেবদারু ফটকের মণ্ডপ সজ্জার বিষয়। কবি তৎকালীন সামাজিক পরিস্থিতি, দুর্ভিক্ষকে ভেবে কবিতার লাইনগুলি লিখেছিলেন। বর্তমানে সমাজের পরিস্থিতি অনেক বদলেছে।

আরও পড়ুন: সিপিএম-কংগ্রেসের হাত ধরুন মমতা, চান মোদীর রাজ্যের বিধায়ক

ভারতকে এখন গরীবের দেশ বলা যায় না। উন্নতিশীল দেশে এখনও বহু মানুষ রয়েছে যাদের দু-মুঠো খাবারের জন্য ভিক্ষা করতে হয়। মহানগর কলকাতা। সিটি অফ জয়। কিন্তু এমন শহরের বহু মানুষের জীবন কাটে পথেই। দুটো টাকা চেয়ে, কখনও কিছু না পেলে হাট বাজার থেকে চুরি করে।

ধরা পড়লে বিপদ আরও বেশী। পেট সে সব বোঝে না। দেবদারু ফটকের দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা , না খেতে পাওয়া মানুষরাও তার সন্তান। তিনি যেন এদের দিকেও মুখ তুলে তাকান। তিনি দুর্গতিনাশিনী। এটুকু তিনিই করতেই পারেন।

আরও পড়ুন: সিউড়ির বিশেষ আকর্ষণ ১৮ মূর্তির দুর্গা পুজো

ক্ষুধার রাজ্যের শিশুদের ছবি থাকবে মণ্ডপ জুড়ে। শিল্পী অভিজিৎ ঘটক বলেন, “বিষয়টা বোঝাতে পুরোটাই ইন্সটলেশনের ব্যবহার করা হচ্ছে।” তবে প্রতিমা অন্যরকম হবে বলে জানাচ্ছেন শিল্পী। তিনি এখানে অন্নপূর্ণা। তবে যেমন অন্নপূর্ণা মূর্তি যা দেখা যায় তেমন হবে না। অভিজিৎ বলেন, “বিষয়টা আমার মতো করে ভেঙেছি। মায়ের হাতে অস্ত্রের বদলে থাকবে কলসি। যেখানে রয়েছে খাদ্যের ভাণ্ডার। খাদ্যের প্রয়োজন পড়লেই তিনি তার ভাঁড়ার খুলে দেবেন।”

আরও পড়ুন: আইএসএল থেকে যুবভারতীর প্রশংসায় বার্সা লেজেন্ডরা

বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ভাষ্যপাঠ রাখা হয়েছে। ভাষ্যপাঠে রাখা হয়েছে কবি সুকান্তের ‘হে মহা জীবন’ কবিতাটি। যা পাঠ করছেন প্রখ্যাত অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। সংঘের সদস্য অরিজিত বলেন, “অনেকেই আমরা খাবার নষ্ট করি। যেটা খেতে পারি না ফেলে দেওয়া হয়। না ফেলে দিয়ে সেই খাবার যদি অভুক্তদের দেওয়া হয় তাহলে সেটা সমাজের উপকার হয়। এই বার্তাটা আমরা দিতে চাইছি।”

আরও পড়ুন: কৃষ্ণবংশজাতের হাতেই ‘বধ’ মাশরাফি-মুশফিকুররা