ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিতর্ক পার্ট-ওয়ানের রেশ কাটার আগেই বিতর্ক পার্ট-টু-তে জড়ালেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা৷ এবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক ঝান্ডা ধরার পরামর্শ দিলেন তিনি৷

শুক্রবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন রাহুল সিনহা। তাঁর কথায়, “যাঁদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি, নোবেল পান তাঁরাই।” এই মন্তব্যে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও কটাক্ষ করা হয় বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। অভিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী এস্থার দুফলো যৌথভাবে সম্প্রতি নোবেল পেয়েছেন। এই বিতর্কিত মন্তব্য করার প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন রাহুল সিনহা৷ উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিলেন অমর্ত্য সেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন ইতালিয়ান অর্থনীতিবিদ ইভা কোলোরনি।

এবার তিনি বললেন, মোদীর সঙ্গে দেখা করতেই পারেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। দেখা করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নোবেল পাওয়ার আগে এবং পরে যেভাবে অভিজিতৎ রাজনীতি করছেন, তা উচিত নয়। রাহুল বলেন, অর্থনীতিবিদ অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করবেন। কিন্তু অর্থনীতিবিদ যদি রাজনীতি করেন, কোনও দলকে আঘাত বা ছোটো করেন, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। যদি রাজনীতি করতেই হয় তাহলে ঝান্ডা নিয়ে রাজনীতি করুন৷ তাঁর এ হেন মন্তব্যে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।

প্রসঙ্গত, এই একই সুরে অভিজিৎকে কটাক্ষ করেছিলেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। অভিজিৎ ‘বামপন্থী মনোভাবাপন্ন’ বলে ব্যাখ্যা করে বলেন, কংগ্রেসের আর্থিক প্রকল্প ন্যায়কে সমর্থন জানিয়েছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ধরাশায়ী হওয়ায়, ওই প্রকল্পও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের মানুষ। সেই কারণে অভিজিতের ভাবনাও খারিজ হয়ে গিয়েছে। পীযূষ গোয়েলের কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক৷ তিনি বলেছেন, ন্যায় প্রকল্প তৈরির সময় কংগ্রেস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তিনি বলেছিলেন, কোন খাতে কত বরাদ্দ করা উচিত। এরপরই বলেন, শুধু কংগ্রেস নয়, বিজেপি যদি তাঁর কাছে পরামর্শ চায়, তিনি সহযোগিতা করবেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে দেশের অবস্থান তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পাবে। একই সঙ্গে তিনি যে এ ব্যাপারে পেশাদার তাও নির্দিষ্ট করে বলেন হার্ভার্ডের অধ্যাপক। এই প্রসঙ্গেই এদিন রাহুল ফের আক্রমণ করলেন অভিজিৎকে৷

রাহুল সিনহা এ দিন বলেন, “সারা দেশের মানুষ তাঁর চিন্তাকে বরখাস্ত করেছে। ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তাঁর ভাবনার কোনও মূল্য নেই, প্রমাণ হয়ে গেছে।” বিদেশিনী বিতর্কে, রাহুলের সাফ কথা, “এই মন্তব্য প্রত্যাহার করছি না। যা ঘটনা সেটাই বলেছি।”