স্টাফ রিপোর্টার, জয়নগর: বাবুল সুপ্রিয়র পর ‘বুলবুল’-এ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত গোসাবা এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দেবশ্রী৷ সেখানে তাঁর সামনে ‘গো ব্যাক’স্লোগান, কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা৷ বিজেপি কর্মীদের মারধর করে তাদের মঞ্চও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের।

বুলবুল বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে এদিন লঞ্চে চড়ে গোসাবা যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী। অভিযোগ, গোসাবার ঘাটে নামার পরই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এলাকার তৃণমূল সমর্থকরা। কালো পতাকা প্রদর্শন করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এমনকী, বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়। এ দিন লাহিড়ীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় যাওয়ার সময় সাতজেলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দয়াপুর বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিজেপি। দেবশ্রী চৌধুরী-সহ বিজেপি নেতাদের আটক করে রাখা হয়। এর পর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ দিন হেলিকপ্টারে করে বুলবুল বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দেখে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং অর্থনীতি মন্ত্রকের সদস্যদের নিয়ে বুলবুল বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনের জন্য তৈরি হয়েছে একটি প্রতিনিধি দল। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সেই প্রতিনিধি দল বসিরহাটের এসডিও অফিসে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘বুলবুল’ বিধ্বস্ত নামখানায় গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও। বাবুলকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আসানসোলের বিজেপি সাংসদকে কালো পতাকা দেখানোরও অভিযোগ উঠেছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেওয়া হয়। সেখান থেকে বাবুল নিজেই বাইক চালিয়ে ফ্রেজারগঞ্জে যান। সেদিন সেই সময় জয় শ্রীরাম ধ্বনিও ওঠে। বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘‘এখানে কাজ করতে এসেছিলাম। বিক্ষোভ যে দেখাবে সেটা জানাই ছিল।’’

বৃহস্পতিবার বুলবুল দুর্গতদের ‘ডিগনিটি কিট’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্যোগের কবলে পড়া মানুষদের যাতে নতুন করে শুরু করতে কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়। তার জন্য বিশেষ কিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।