স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: ভয়ঙ্কর রূপ সন্দেশখালির৷ তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত সেখানকার পরিস্থিতি৷ ইতিমধ্যেই নিহত চার জন৷ বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা৷ যুযুধান দুই শিবিরেরই ইঙ্গিত অন্তত সেদিকেই৷ ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বাংলায় হিংসার বিরাম নেই৷ যা অবস্থা তা ৭২ সালের কালো দিনের থেকেও খারাপ৷ মনে করছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী৷

এদিন মালদহে রায়গঞ্জের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই রাজ্যে যা চলছে তা ৭২ সালের পরিস্থিতির থেকেও খারাপ৷ পুলিশ সম্পূর্ণ দল দাসে পরিণত হয়েছে।’’ থেমে না থেকে মন্ত্রী সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে৷ তাঁর হুমকি, ‘‘তৃণমূল ছোট্ট একটা দল৷ আমরা যদি তাদের পিশে মারতে চাই বেশিক্ষণ লাগবে না। ৩৪ থেকে এখন ২২-শে পরিণত হয়েছে।’’

আরও পড়ুন: সোমবার মোদী-কেশরীনাথ বৈঠকে উঠতে পারে সন্দেশখালি প্রসঙ্গ

বাংলায় এবার গেরুয়া ঝড়ের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ভোটের ফলে৷ তারপর থেকেই বেড়েছে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক৷ গন্তব্য বিজেপি৷ এই অবস্থায় ২১শে নয়, তার আগেই রাজ্য দখলের স্বপ্ন দেখছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা৷ যা বাস্তবায়ণে বাংলায় ‘অশান্তি’কে কাজে লাগাতে মরিয়া বিজেপি৷ ফলে সন্দেশখালির প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরির হুিমকি বেশ তপর্যবাহী বলেই মনে করা হচ্ছে৷

বিরোধীদের অভিযোগ এরাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন৷ গত বছর পঞ্চায়েত ভোটে বহু আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি বিজেপি৷ এবারও ভোটের প্রচারের বেশ কয়েকবার বিজেপি সভাপতির সভা বানচাল করে রাজ্য প্রশাসন৷ ভোটের ফল বের হওয়ার পরও নিহত হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী৷ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের বিজয় মিছিলে৷

এপ্রসঙ্গে দেবশ্রী চৈধুরী বলেন, ‘‘বিজেপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এই কাজের জবাব মানুষ দেবে খুব দ্রুত৷ বাংলার মানুষই ওদের সরাবে।’’ সন্দেশখালির ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বরাষ্ট দফতরের থেকে রিপোর্ট তলব করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ সেখানে যাচ্ছেন পদ্ম শিবিরের সংসদীয় প্রতিনিধি দল৷ সোমবার প্রধানমন্ত্রী-রাজ্যপাল বৈঠকেও উঠে উঠতে পারে এই হিংসার বিষয়৷

আরও পড়ুন: মাইনাস ৭০ ডিগ্রি, হাতুড়ি দিয়েও ডিম ফাটাতে ব্যর্থ জওয়ানরা

ফ্ল্যাগ খোলাকে কেন্দ্র করে বিবাদ৷ তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির হাটগাছিতে৷ ভয়ঙ্কর হয়ে ওটে পরিস্থিতি৷ সংঘর্ষে নিহত হন তৃণমূল কর্মী কায়ুম মোল্লা। উদ্ধার হয় প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডলের দেহ৷ যাদের নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে গেরুয়া শিবির৷ উভয়পক্ষেরই দাবি তাদের বহু কর্মী সংঘর্ষের জেরে নিখোঁজ৷

এই ঘটনার জন্য বিজেপি নেতা মুকুল রায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন৷ তৃণমূলের তরফে রাজ্যের অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিজেপিকে নিশানা করা হয়৷ অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের মাঝেই সন্দেশখালির পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি করা হয়৷