কলকাতা : বর্ষার আগেই ১০২ মিলিমিটারের বিপুল বৃষ্টি। জলে হাবুডুবু কলকাতা। তাতেই নাকি কলকাতা পুরসভার প্রকল্প ভেসে গিয়েছে। এমন এক ব্যানার জলে ভাসছে , এই ছবি মঙ্গলবার বৃষ্টির পর থেকে দেদার ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মাধ্যমে। ছবি বেশিরভাগ শেয়ার করেছেন বাম সমর্থকরা। তালিকায় বহু নামের মধ্যে বাম নেতা শতরুপ ঘোষও। এ নিয়েই মুখ খুললেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম আলোচ্য চরিত্র দেবাংশু যিনি তৃণমূলের মুখপাত্র তিনি মুখ খুললেন ওই বিষয় নিয়ে।

তিনি জল জমা প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বামেদের। সোশ্যাল মাধ্যমে ওই ছবির তলায় বুধবারের খটখটে ওই স্থানের ছবি দিয়ে বলেছেন, ‘বাম আমলে কলকাতার জল নামতে সাতদিন সময় লাগতো। পাবলিক তৎকালীন সিপিএমের মেয়রকে ব্যঙ্গ করে বলতো, “বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য চাঁদে গেলও জল জমাবে!”

এরপরেই তিনি বলেছেন, ‘কলকাতায় জল সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হচ্ছে নিকাশি ব্যবস্থা ভালো করা এবং পাম্পিং স্টেশন গুলিকে যথাযোগ্য উপায় মেনটেন করা এবং চালু রাখা। তৃণমূল কংগ্রেস কর্পোরেশনে আসার পর থেকে এই কাজটা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেছে। কলকাতা কর্পোরেশন এলাকায় যারা সিপিএম এর সময় থাকতেন, এবং আজও যারা থাকেন, তারা খুব ভালোমতোই জানেন সিপিএমের সময় কদিনে জল নামত আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় কত ঘণ্টায় জল নামে।’

আরও লিখেছেন, ‘পাম্পিং স্টেশন গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই সমস্যাটির মোকাবিলা করার দরুন গত আট নয় বছর যাবত আগের মতো সাতদিন–দশদিন জল জমে থাকেনা, ঘন্টা ৪ থেকে পাঁচ ঘন্টার মধ্যেই জল নেমে যায়। এটাকেই পরিবর্তন বলে! এই কারণেই কলকাতা জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ৬০% শতাংশ ভোট পায় একাই। পাবলিক বোকা না স্যার!’

ওই ব্যানার প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘যে প্রকল্পের পোস্টার এখানে দেওয়া আছে, সেটার কাজ এখনও শেষ হয়নি। সিপিএম যেমন একদিনে শূন্য হয়নি, ধীরে ধীরে নিজেদের বিলিয়ে দিতে দিতে শূন্য হয়েছে, সেভাবেই কোন প্রকল্প একদিনে তৈরি হয় না। ধীরে ধীরে তৈরী হয়।’

জল জমা প্রসঙ্গে দেবাংশুর যুক্তি, ‘আরো একটা কথা, “লন্ডন করতে গিয়ে ভেনিশ হয়ে গেল”–মার্কা কথা বলার আগে একটু জেনে নেবেন, লন্ডনেরও প্রধান সমস্যা শহরে জল জমা। কারণ লন্ডনও টেমস নদীর তীরে কলকাতার মতই বাটি আকৃতির একটি জমি.. তাই ভারতের থেকে বহুলাংশে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকা দেশ হয়েও, ওরাও জল জমা বন্ধ করতে পারেনি। পেরেছে জমা জল দ্রুত নামাতে.. যেটা আজকে কলকাতাও পারে।’

শেষে শতরূপ ঘোষকে নাম না করে কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই খটখটে শুকনো রাস্তার রূপ হয়ে উন্নয়ন দাঁড়িয়ে থাকে গলিতে গলিতে, মোড়ে মোড়ে। আর সেই মোড়ের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে কিছু দিলীপ ঘোষের ভায়রাভাই, হ্যাটট্রিক করা হতাশাগ্রস্থ নেতা’।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.