কলকাতা: সংযুক্তিকরণের পর শুক্রবার প্রথম বোর্ড মিটিং’য়ে এক ঐতিহাসিক সমঝোতার পথে হেঁটেছে এটিকে-মোহনবাগান। ক্লাবের নাম এটিকে-মোহনবাগান চূড়ান্ত হলেও ১৩১ বছরের ঐতিহ্য, পরম্পরা এবং দর্শক ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে জার্সির রং তো বটেই এমনকি লোগোতেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে মোহনবাগানকেই। ৮০ শতাংশ মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার পরেও ক্লাবের ঐতিহ্য-পরম্পরা রক্ষা করতে পেরে যারপরনাই খুশি দুই বাগান কর্তা তথা এটিকে-মোহনবাগানের পরিচালকমন্ডলীর দুই সদস্য দেবাশিস দত্ত এবং সৃঞ্জয় বোস।

দেবাশিস দত্ত জানিয়েছেন, আগেও সমর্থকেরা মোহনবাগান নামের আগে ম্যাকডোয়েল কিংবা ইস্টবেঙ্গল নামের আগে কিংফিশারকে সাদরে গ্রহণ করেছে। সুতরাং, এটিকে-মোহনবাগান মেনে নেওয়ার বিষয়টাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় বলেই জানিয়েছেন মোহনবাগানের প্রাক্তন অর্থসচিব। আর ঠিক এই ইস্যুতেই পড়শি ক্লাবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার। তবে বাগানকে অভিনন্দন জানালেও এটিকে’র জন্য তাঁর কাছে পড়ে রইল শুধুই কটাক্ষ।

দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, ‘মোহনবাগানকে অভিনন্দন জানানোর ভাষা নেই। কোনও সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে গেলে যে কোনও দলকে শেয়ার ছাড়তেই হবে। সেক্ষেত্রে মোহনবাগানের বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত। তবে দেখার বিষয় ছিল, ক্লাবের ঐতিহ্য তাঁরা ধরে রাখতে পারে কীনা। সেই ঐতিহ্যকেও সঙ্গে নিয়ে তাঁরা আগামীদিনে পথ চলবে। তাঁদের কর্মযজ্ঞকে সাধুবাদ না জানিয়ে উপায় নেই।’ এরপরেই এটিকে’র প্রতি কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা।

দেবব্রত সরকারের কথায় কলকাতার তিন প্রধানের নাম কখনও মুছে যাওয়ার নয়। তাঁর কথায়, ‘কলকাতার তিন প্রধানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি কোটি মানুষের আবেগ। একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে তিন প্রধানকে বয়ে এনেছেন বহু কর্তা। তাঁদের পরিশ্রম, নিষ্ঠা, সততা কখনও ব্যর্থ হতে পারে না। তাই এটিকে, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা যারাই এই তিন প্রধানের সঙ্গে যুক্ত হোক না কেন, তাঁদের নাম মুছে যাবে।’ অর্থাৎ, মোহনবাগানের সঙ্গে সংযুক্ত হলেও আগামীদিনে অচিরেই মুছে যাবে এটিকে’র নাম। রয়ে যাবে মোহনবাগানই। পরোক্ষে ইস্টবেঙ্গল কর্তা যে একথাই বোঝাতে চেয়েছেন তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ