কলম্বো: একধাক্কায় বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা ১০০ কমিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা সরকার।

বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়ক প্রধান দাবি করেন, ইস্টার সানডের বিস্ফোরণে ২৫০ থেকে ২৬০ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ৩৫৯ জন নিহতের কথা বলা হচ্ছে, তা ঠিক নয় বলেই দাবি ওই স্বাস্থ্য প্রধানের।

যেহেতু মৃতদের শণাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে দাবি সরকারের।

ওই আধিকারিকদের কথায়, এই মুহূর্ত নিহতের সঠিক সংখ্যা নির্ভুল ভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ, বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন অজস্র অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঘটনাস্থলের চারপাশে এখনও ছড়িয়ে ছটিয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত, গোয়েন্দা ব্যর্থতার জেরে ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সচিবকে। বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগ করেন। জানা গিয়েছে, পুলিশ প্রধানকেও পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ধর্মীয় স্থানে ফের একইভাবে হামলা হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আমেরিকা। সপ্তাহান্তে সেই হামলা চালানো হতে পারে বলে রিপোর্ট দিয়েছে শ্রীলঙ্কার মার্কিন দূতাবাস। কারণ শ্রীলঙ্কায় এখনও আত্মঘাতী জঙ্গিদের উপস্থিতি রয়েছে বলে অনুমান করছে আমেরিকা।

শ্রীলঙ্কার মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকে একটি ট্যুইট করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, উইকেন্ডে অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ধর্মীয় স্থানগুলিতে যেন কেউ না যায়। বড় কোনও জমায়েত যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

ইস্টারের সকালে পরপর একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দ্বীপ রাষ্ট্র।

‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলঙ্কাকে সম্ভাব্য হামলার জন্য সতর্কতা দিয়ে আসছিল। নাম উঠে এসেছিল ‘ন্যাশনাল তওহিদ জামাত’ নামে একটি সংগঠনের, পাকিস্তানে যাদের অনেক সদস্য আছে বলে জানা যায়। এই বিস্ফোরণে শ্রীলঙ্কার সরকারও ওই সংগঠনকেই সন্দেহ করছে।

শ্রীলঙ্কায় যে ক্রমশ মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের প্রভার বাড়ছে, সেব্যাপারে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক করেছিল। লস্কর-ই-তইবা ও তাদের সমগোত্রীয় সংগঠনগুলির প্রতিপত্তি যে বাড়ছে, সেই রিপোর্ট আগেই দেওয়া হয়েছিল৷