নয়াদিল্লি: তেলেঙ্গানার পশু চিকিৎসক তরুণীর গণধর্ষণ করে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর থেকে উত্তাল গোটা দেশ। ২৬ বছর বয়সীর সঙ্গে এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সাধারণ মানুষ থেকে বিশিষ্টরা। মতামত জানিয়েছেন বলিউড দুনিয়ার তারকারাও। এমন অবস্থাতে বিজেপি সাংসদ এবং কেন্দ্রীর প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় মন্তব্য করেছেন ‘মৃত্যুদণ্ড এই ধরণের নরখাদকদের থামাতে পারবে না’।

এই মন্তব্যের পরেই শুরু হয়ে নানা ধরণের প্রতিক্রিয়া। অনেকে ভাবতে থাকেন তিনি হয়তও মৃত্যুদণ্ড দিতে চান না দোষীদের। তিনি ট্যুইট করে লিখেছেন, “আমি বুঝতে পেরেছি যে কোন শক্ত সাজা দিয়েই এই ধরনের ঘৃণ্ণ কাজ থামানো যাবে না। এমনকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও এই ধরণের নরখাদকরা সমাজে থেকে যাবে। তাঁদের অসুস্থ মানসিকতা নিয়েই তাঁরা থেকে যাবে”।

বিজেপি সাংসদের এমন মন্তব্যের পর থেকে তার কিছুটা ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। কেননা শুরুতে তারা মনে করতে শুরু করেছিলেন এই মন্ত্রী দোষীদের কঠিন সাজা দেওয়ার বিপক্ষে।

কিন্তু তার সপক্ষেও তিনি যুক্তি দিয়েছেন, একজন মন্ত্রী এবং সাংসদ হিসেবে এই ঘটনা ঘটাতে তিনি দুঃখিত। এই ধরণের মানুষেরা কোন কিছুর যোগ্য নন। ডিএনএ পরীক্ষায় দোষ প্রমানিত হলে এদের ক্ষুধার্ত কুকুরদের সামনে বা ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে ফেলে দেওয়া উচিত। কিন্তু তা বলতে পারেন না।

তিনি আরও জানান যখন ওই ঘটনার কথা ভাবেন ইচ্ছে করে যদি তার ওই ধর্ষকদের জ্বালিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা থাকত। কিন্তুও তিনিও একজন বাবা। তার দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে ২০ বছরের। বাড়ি ফিরতে মেয়ের দেরী হলে তিনিও বাকি বাবাদের মত চিন্তা করেন।

বুধবার রাতের ঘটনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে সারা দেশে। সরাসরি প্রশাসনের দিকে আঙ্গুল তুলছেন অনেকেই। দ্রুত শাস্তির দাবিতে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষেরা। ইতিমধ্যে তিন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এছাড়াও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে যথাসাধ্য সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন। যাতে দ্রুত বিচার ব্যবস্থা করা যেতে পারে সেই কারণে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত করে শুনানি হবে বলেও জানিয়েছেন। তার ছেলে কে টি রামা রাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইন সংশোধন করে যাতে এই অভিযুক্তদের কঠিন সাজা দয়া যায় সেই নিয়ে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন।