স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : বামেদের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি অনেক বামপন্থী স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। একটা আসনও। তারা পাবেন না এটা ভাবনাতীত ছিল প্রত্যেক বাম সমর্থক শুধু নয় বহু রাজনীতিবিদের কাছেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বলেই দিয়েছেন বামেদের এমন ফল অপ্রত্যাশিত। তাদের শূন্য দেখতে তিনি চান না। স্বাধীনতার পরে এই প্রথম বামহীন রাজ্যের বিধানসভা। এমন ধাক্কা একেবারেই সামলাতে পারেননি ব্যারাকপুরের বিশিষ্ট নাট্যকার সমীর বিশ্বাস। সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বামপন্থীদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের সংবাদ পেয়েই বাড়ি ফিরে আসেন। তারপরেই সেরিব্রাল স্ট্রোক হয় তার। মারা যান গতকাল। ফেসবুকে তিনি তার জীবনের শেষ কবিতাটি পোস্ট করেছিলেন । সেটি অনুগ্রহ করে সবাই পড়বেন। প্রয়াত নাট্যকার সমীর বিশ্বাস, ব্যারাকপুর আনন্দপুরী অঞ্চলে ‘সঙ্গম’ বলে পরিচিত ছিলেন। ‘নীহারিকা’ নাট্য সংস্থার অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন তিনি। দারুন দেয়ালও লিখতে পারতেন। তিনি নিজে এবং তাঁর বাবা,দাদা সহ পুরো পরিবার বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বামেদের ফলে আঘাত পেয়ে তিনি শেষ একটি কবিতাও লিখে যান মৃত্যুর আগে। কবিতার নাম, বলতে পারবো না, মাফ করবেন। তিনি লিখেছেন, ‘ফলাফল “শূন্য” হলেও বলতে পারবো না, ছাত্রযুবদের কর্ম সংস্থানে দাবীটা ভুল ছিল। ফলাফল যতই শূন্য হোক, বলতে পারবো না, আমফানের ঝড়ে, বৃদ্ধ বয়সে, দিন নেই রাত নেই, সুন্দরবনের কান্তিবাবুর বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, বাঁধ সারানোর কাজ করাটা ভুল ছিল। বলতে পারবো না। ফলাফল যতই শূন্য হোক বলতে পারবো না, অতিমারির লকডাউনে দিনের পর দিন,  নিরন্ন মানুষের মুখে, খাবার তুলে দেওয়া ভুল ছিল। আমি বলতে পারবো না। আমি বলতে পারবো না, সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের জমি-আন্দোলনের পেছনে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কথা বলাটা ভুল ছিলো বলতে পারবো না।

প্রদীপ তা কমল গায়েনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অপরাধীদের শাস্তি চাওয়া ভুল ছিল বলতে পারবো না। মানুষ যতই প্রত্যাখ্যান করুক আমি বলতে পারবো না দেশকে দেউলিয়া বানানোর কেন্দ্রীয় চক্রান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ভুল ছিল। কৃষক মারা আইন বাতিলের, দাবী করাটা ভুল ছিলো আমি বলতে পারবো না। বরঞ্চ আমি বলবো, রুটি রুজির প্রশ্নে , ভ্রস্টাচার – অনাচারের বিরুদ্ধে, সবার হাতে কাজ সবার পেটে ভাতের দাবিতে, কিংবা দেশকে বেচে দেবার বিরুদ্ধে প্রতিটা লড়াই সংগ্রাম সংগঠিত করাই সঠিক কাজ।’

বাংলার ভোটে বামেদের ভরাডুবির পর বিবৃতি জারি করেছে সিপিএমের পলিটব্যুরো। পলিটব্যুরো জানিয়েছে, ‘বাংলায় বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। বাংলার মানুষ স্পষ্ট ভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের মতাদর্শকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংযুক্ত মোর্চা ও বামেদের ফল হাতাশাজনক। মেরুকরণের কারণেই সংযুক্ত মোর্চা কোণঠাসা হয়েছে। দলে হারের পর্যালোচনা থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে।’

২০১৬ নির্বাচনে ভোটে বাম কংগ্রেস জোট ৭৭টি আসনে পেয়েছিল। ২০২১এর এবার একসঙ্গে তিন দলের জোটে হয় বামেদের। ফল সাকুল্যে একটি আসন পেয়েছে জোট। বাম শূন্য। কংগ্রেসও শূন্য।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.