স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: শহর থেকে গ্রাম রাজ্যের কম বেশি সব শহরে এবং জেলায় পুজোর আগে ডেঙ্গুর প্রকোপ কাবু করে দিয়েছে মানুষকে। আর সঠিক সময়ে ঠিক চিকিৎসা না হলে ডেঙ্গুর পরিনাম যে কি হতে পারে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাংলার মানুষ। বর্ষার সময় থেকে শুরু হওয়া এই ডেঙ্গুর প্রকোপে পড়ে ইতিমধ্যে মারা গিয়েছে অনেক মানুষ। ডেঙ্গু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভ্রান্ত ধারনা এবং শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি মানুষকে সচেতন করে তুলতে রাজ্যসরকার, স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং পুর পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দগুলির তরফে গ্রামের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু-সচেতনতার প্রচার করে এলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও সেইভাবে কমানো যায়নি বলে স্বীকার করছে প্রশাসন।

এদিকে আগমনীর আবহের মধ্যেই ফের ডেঙ্গুর থাবা বসল জেলায়। যার জেরে এক ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে বলে খবর জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর ডেঙ্গুতে মৃত ওই ব্যক্তির বাড়ি মালদহ জেলার গাজোল থানার বাকসারাই এলাকায়। চারিদিকে যখন পুজোর আনন্দে সাজসাজ রব পড়ে গিয়েছে তখন নতুন করে জেলায় আবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম সুরেন দাস ( ৫৫)। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই সে অজানা জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিল গ্রামের স্থানীয় হাতিমারি হাসপাতালে। কিন্তু ওই হাসপাতালে তাঁর অবস্থার কোনও উন্নতি না হওয়ায় সুরেন দাসের পরিবারের লোকেরা সেখান থেকে তাকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সিদ্বান্ত নেন। সূত্রের খবর মালদহ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর অবস্থার আরও অবনতি দেখে এবং রাস্তায় অতিরিক্ত যানজটের কারনে তারা সময় নষ্ট না করে সুরেনকে ভর্তি করেন নারায়নপুর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে।

ওই বেসরকারি হাসপাতালের তরফে সুরেনের পরিবারের লোককে তাঁর রক্ত পরীক্ষা করে নিয়ে আসার কথা জানায়। ডাক্তারদের কথামত রক্ত পরীক্ষা করে আনার পরই তাঁর রক্তের রিপোর্টে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, এরপর পরিবারের লোকেরা তাকে হাসপাতালে রেখে যথাযথ চিকিৎসা না করিয়ে ছুটি করিয়ে বাড়ি নিয়ে যান। বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পরই শুক্রবার ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।

যদিও এই গোটা বিষয়টি নিয়ে মালদহ জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে এমন কোনও খবর নেই। গোটা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করে মৃত্যুর প্রকৃত কারন অনুসন্ধানের আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক।