স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে শঙ্করপুর থেকে তাজপুর পর্যন্ত সমুদ্র বাঁধ। বারবার স্থানীয় মানুষজন বাঁধের সংস্কারের দাবি জানালেও এখনও পর্যন্ত সেইকাজ করে ওঠা হয়নি প্রশাসনের।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আমফানের জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই এলাকার সমুদ্র বাঁধ। ফলে চলতি ভরা কোটাল ও নিম্নচাপের জোড়া ফলায় জলোচ্ছাসের ফলে প্লাবিত হচ্ছে শঙ্করপুরের বেশ কয়েকটি গ্রাম। দ্রুত এই সমুদ্র বাঁধের সংস্কার না হলে যেকোনও মুহূর্তে জলের তলায় তলিয়ে যেতে পারে শঙ্করপুর ও তাজপুরের একাধিক গ্রাম।

গত মঙ্গলবার থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলবর্তী এলাকা গুলিতে শুরু হয়েছে নিম্নচাপের বৃষ্টিপাত। বুধবার থেকে শুরু হয় প্রবল জলোচ্ছ্বাস। এর ফলে বানভাসি পরিস্থিতি তৈরি হয় জামড়া, শ‍্যামপুর, তাজপুর, চাঁদপুর ও তাজপুর গ্রামে। সমুদ্রের নোনা জল ঢুকতে শুরু করে মাছের ভেড়ি, চাষের জমি থেকে শুরু করে গোটা গ্রামে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামের একাধিক বাড়িঘরেরও।

জানা গিয়েছে, দ্রুত এই সমুদ্র বাঁধের সংস্কার না হলে যেকোনও মুহূর্তে জলের তলায় তলিয়ে যেতে পারে অধিকাংশ গ্রাম। ফলে বন্যার আশঙ্কায় এখন রাতের ঘুম ছুটেছে এই সমস্ত গ্রামের বাসিন্দাদের।

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আমপানের পর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল শঙ্করপুর থেকে তাজপুর সমুদ্র বাঁধের। দ্রুত এই সমুদ্র বাঁধ কংক্রিটের তৈরীর কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্যের সেচ দফতর। যার জন্য সেচ দফতরের উদ্যোগে বরাদ্দ হয় অর্থও। এরপরও সংস্কার না হওয়ায় এভাবে নড়বড়ে সমুদ্র বাঁধ টপকে স্থলভাগের জল প্রবেশ করতে শুরু করে।

বুধবার দিনভর প্লাবনের আশঙ্কা নিয়ে চোখে ঘুম নেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের। যেভাবে জলোচ্ছ্বাস বাড়ছিল তাতে সমুদ্রের জল ঢুকে গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় থেকেই যাচ্ছিল। তাই গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছিল প্রশাসনও।

এই বিষয়ে কাঁথি সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার স্বপন পন্ডিত বলেন, “সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলির বেশ কিছু জায়গায় জোয়ারের জল ঢুকে পড়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আপদকালীন বাঁধ মেরামতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি জায়গায়।দ্রুত কংক্রিট বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হবে।”

সব মিলিয়ে একদিকে যেমন প্রবল জলোচ্ছাসে আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা তেমন অপরদিকে খুব শীঘ্রই এই সমুদ্র বাঁধ তৈরির কাজের আশ্বাস দিচ্ছেন প্রশাসনের আধিকারিকরাও।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা