বিশেষ প্রতিবেদন: প্রায় ২০ বছর আগে ভারতে “Other State” -র তালিকা হয়৷ উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে সেই সময় জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি উত্ত-পূর্বের অসম, মনিপুর, অরুণাচল, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরামকেও সেই তালিকায় ফেলা হয়৷ অগত্যা, বিনিয়োগের টাকাও বাড়তির খাতায় চলে যায়৷ কোনওরকমে নিজেদের পর্যটনকে বাঁচিয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় ৭ রাজ্য৷ আঞ্চলিক গুরুত্বকে না বুঝেই এই রাজ্যগুলির থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা৷

এক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যগুলি নানাভাবেই নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছে৷ বেশিরভাগ সময়ই, রাজ্যগুলির জেলাভিত্তিক কোনও রিপোর্ট পেশ করা হয় না৷ কেন্দ্রের তরফেই উদ্যোগের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷

রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বে রাজ্যগুলির মানুষ নিজেদের উদ্যোগে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে উন্নতি এনেছে৷ দেশের অধিকাংশ জৈব চাষই উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হয়৷ অরুণাচলের প্রত্যন্ত গ্রামে তৈরি হয় আয়ুর্বেদিক ওষুধ৷ মণিপুর বা নাগাল্যান্ডেও রাজ্যবাসী নিজের চেষ্টায় আঞ্চলিক উন্নয়নে নজর দিচ্ছে৷ তাও ব্রাত্যের তালিকায় পড়ে বিনিয়োগকারীদের সহায়ক দৃষ্টি পাচ্ছে না রাজ্যগুলি৷ সিকিম ছাড়া উত্তর-পূর্বের ৭ রাজ্য কিন্তু কম-বেশি কিছু টুকরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগ থেকে বহু দূরে৷

বিনিয়োগকারীরা জানাচ্ছেন, তাঁরা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি সম্পর্কে বিশেষ অবগত নন৷ কোথায় কোন খাতে বিনিয়োগ হবে সে সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই৷ স্বাস্থ্য,শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়ে বিনিয়োগ এলেও, উত্তর-পূর্বের দরিদ্র রাজ্যগুলি, যারা নিজেদের চেষ্টায় পর্যটন শিল্প বা কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা৷ অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির প্রশাসকরাও বিনিয়োগ নিয়ে বেশি মাথা ঘামান না৷ তাই, বিনিয়োগ করতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের অসহযোগিতায় লক্ষ্মীও মুখ ফেরায় বলে দাবি বিনিয়োগকারীদের৷ তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বিনিয়োগকে পাখির চোখ করায় বেশিরভাগ সময় আকর্ষণীয় বিনিয়োগ থেকে রাজ্যগুলিকে ব্রাত্য হতে হয়৷

বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংস্থা আবার জনসংখ্যাকে দায়ি করছে, তারা জানাচ্ছে,যেখানে বিহারে বিনিয়োগের জন্য একেবারে ৫০০০ কৃষকের কাছে যাওয়া সম্ভব, সেখানে অরুনাচল বা নাগাল্যান্ডে মাত্র ৫০০ কৃষককে হাতে পাওয়া যায়৷ দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও সেক্ষেত্রে দায়ি করা হয়েছে৷ বিনিয়োগকারীদের দাবি, সিকিম ও মনিপুরে কোনও রেল পরিষেবা নেই, সেখানে অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমে বিমানবন্দর রয়েছে৷ যা প্রধান শহর থেকে অনেকটা দূরে৷ অসম,ত্রিপুরাতেও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল৷

বিনিয়োগকারীদের নানারকম দাবি থাকলেও, গলদ গোড়তেই৷ রাজ্যবাসীর চেষ্টা বা চাহিদাকে কতটা বুঝছে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার৷ দেশের বড় শহরে পড়াশুনা করতে আসেন উত্তর-পূর্বের মানুষ৷ যখন বেসরকারি কলেজ গুলোয় কমপক্ষে ১০০ পড়ুয়া উত্তর-পূর্বের, তখন অন্তত রাজ্য বিশেষে কেন এগোচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা? উত্তর-পূর্বের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর দাবি, বিনিয়োগকারীদের দূরে সরিয়ে রাখছে কেন্দ্রই৷ সবমিলিয়ে, শুধু বিনিয়োগের অভাবেই অনেকটা পিছিয়ে পড়ছে নাগাল্যান্ড,মণিপুরের মত রাজ্যগুলি৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ