দামাস্কাস: রাসায়নিক গ্যাসের হামলায় সম্প্রতি সিরিয়ায় ৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা দেহের ভয়ঙ্কর ছবিও সামনে এসেছে। এই ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে আমেরিকা। তবে সেই মৃত্যু যে কতটা ভয়ঙ্কর, সেই বর্ণনাই দিল সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো।

সিরিয়ার দৌমায় ফেলে দেওয়া হয় ক্লোরিন আর সারিন গ্যাসের একটি বোমা। এরপরই আশেপাশে থাকা শিশুদের মুখে গ্যাঁজলা উঠতে শুরু করে। নার্ভাস সিস্টেমে এমনভাবে অ্যাটাক হয় যে নিঃশ্বাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে তাদের পক্ষে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সায়নাইডের থেকে ২৬ গুন মারাত্মক এই সারিন গ্যাস।

এতটুকু সারিন গ্যাসও শরীরে প্রবেশ করলেই তার মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করে। নাক দিয়ে জল বেরতে থাকে, বুকে চাপ লাগে। ধীরে ধীরে শুরু হয় বমি, প্রস্রাব। শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণের শক্তি সম্পূর্ণভাবে লোপ পেতে শুরু করে। ক্রমে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হতে শুরু করে। ১৯৩৮-এ কীটনাশক থেকে তৈরি হয়েছিল এই বিষাক্ত গ্যাস।

খুব তাড়াতাড়ি উবে যায় এই গ্যাস, তাই এই গ্যাসেই রাসায়নিক অস্ত্র বানানো হয় বেল জানিয়েছেন, লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির প্রফেসর রোড ফ্লাওয়ার।

৭০ জনের মৃত্যুই শেষ নয়। এই গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছে সিরিয়ার সহস্রাধিক মানুষ। সিরিয়ার ইতিহাসে এটা অন্যতম বড় একটি হামলা।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হোয়াইট হেলমেট’ বলছে, সরকারি বাহিনীর এই হামলায় ৭০ জন নিহত হয়েছে। এর সংখ্যা বাড়তে পারে। হোয়াইট হেলমেটস প্রথমে ৭০ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি ট্যুইট করে জানায়। পরে আবার সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানায়।

সিরিয়ার সংবাদমাধ্যমে এই ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। তারা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর অভিযোগও এনেছে। রাসায়নিক হামলার অভিযোগের পর আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। রাসায়নিক হামলার ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তবে এর জন্য রাশিয়াই দায়ী থাকবে বলেই আমেরিকার অভিযোগ।

গত ফেব্রুয়ারিতে হামলা চালিয়ে পূর্ব গৌতার প্রায় পুরোটাই দখল করে নেয় সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। শুধু বাদ ছিল দৌমা। গত শুক্রবার এই অঞ্চলে বিমান হামলা চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, দৌমায় হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছে। সেখানে সাধারণ অস্ত্রই ব্যবহার হয়। ধোঁয়ায় অনেকে মারা যায়। এর ফলে ৭০ জনের মতো মানুষ শ্বাসকষ্টে ভুগছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।