কলকাতা: শহর দেখল আরও একটি লুকিয়ে থাকা মারণফাঁদের নির্মম চিত্র৷ ফাঁদটি মাঝেরহাট উড়ালপুল৷ মঙ্গলবার বিকেলে তাসের ঘরের মত পড়ে গেল উড়ালপুলের মাঝের অংশ৷ প্রথমে ব্রিজের একটি অংশে ভাঙতে শুরু করে, তারপরই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ব্রিজে মাঝের অংশ৷ কিছু অংশ বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে থাকে৷ ২০১৬-র ৩১ মার্চ পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে পড়ার তিন বছরের মধ্যেই কলকাতার বুকে আরও একটি উড়ালপুর ভাঙার বিভৎসতা৷

ভাঙল ব্রিজ- বিকেল সাড়ে ৪টে৷ প্রথমে তীব্র কম্পন৷ চোখের পলকে ভেঙে পড়ল মাঝেরহাট উড়ালপুলের মাঝের অংশ৷ বিরাট শব্দে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আশেপাশের মানুষ৷ উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন স্থানীয়রাই৷ খবর দেওয়া হয় পুলিশ,এনডিআরএফ, সেনা৷ কোনওরকম নির্দেশের পরোয়া না করেই উদ্ধারকাজে নামে সেনা৷ ঘটনাস্থলে দেখা যায় সেনা আধিকারিকদের৷

 

চাপা পড়ল গাড়ি, বাড়ি– সেতু ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে নীচে পড়ে যায় একটি মিনি বাস, তিনটি প্রাইভেট কার, ২টি অ্যাপ ক্যাব,২টি বাইক৷ ভাঙা ব্রিজের নীচে ছিল টিনের ছাউনি৷ সেই ছাউনির তলায় এখনও আটকে বেশ কয়েকজন বলে জানা যাচ্ছে৷ সেতুর তলা থেকে তখন শুধুই আর্তনাদ৷ উদ্ধারকাজ তৎপরতার সঙ্গে চললেও ভাঙা ব্রিজের তীব্রতা ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর, তখনও বুঝে উঠতে পারেননি স্থানীয়রা৷ একে একে তখন উদ্ধার হচ্ছেন আটকে থাকা মানুষ৷ হতাহতের খবর তখনও নেই৷

হাসপতালের আহতরা- এখনও পর্যন্ত সরকারি সূত্রে ১ জনের মৃত্যু৷ মৃতের নাম সৌমেন বাগ৷ আহতের সংখ্যা ১৯৷ বেসরকারি সূত্রে, ৫-৬ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা৷ আহতদের এসএসকেওম হাসপাতাল ও আমরিতে ভর্তি করা হয়েছে৷ এসএসকেএমে ৯ জন ও আমরিতে ১০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে৷ আহতদের পরিবার উদ্ধারকারী দল বা স্থানীয়দের ফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন৷ সৌমেন বাগের পরিবারের ক্ষেত্রেই এই ঘটনাটি ঘটে৷ সৌমেনের পরিবারকে ফোন করে জানান হয় সে এসএসকেএমে ভর্তি৷ এসে ছেলের মৃত্যুর খবর পান মা-বাবা৷

 

প্রশাসনিক তৎপরতা-ব্রিজ ভাঙার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী৷ দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন৷ চরম তৎপরতায় চলে উদ্ধারকাজ৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ এসএসকেএম,সিএমআরআই-এ আহতদের অবস্থা খতিয়ে দেখতে সেখানে পৌঁছন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷

 

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা- দুর্ঘটনার পরই নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর৷ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তৈরি হয়েছে বিশেষ তদন্ত কমিটি৷ মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ব্রিজ ভাঙার দায় যাদের তাদের কড়া শাস্তি হবে৷

রাতে জারি উদ্ধারকাজ-ব্রিজের নীচে অনেকের আটকে থাকার সম্ভাবনা৷ তাই সারারাত ধরে চলবে উদ্ধারকাজ৷ কলকাতা পুলিশের তরফে বিশেষ আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, বিশেষ সুড়ঙ্গ কেটে সারা রাত ধরে চলবে উদ্ধারকাজ৷

আচমকা ব্যস্ত সময়ে উড়ালপুল ভেঙে পড়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ ধ্বংসস্তুপের মধ্যে আটকে থাকা মানুষের আর্তনাদ কানে আসছে উদ্ধারকারী দলের৷ ২০১৬-র ৩১ মার্চ, পোস্তার উড়ালপুল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ২৬ জনের, আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ৮০৷ মাঝেরহাট উড়ালপুল ভেঙে পড়ার ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমান ঠিক কতটা তা এখনও পর্যন্ত অস্বচ্ছ৷