মুজাফ্ফরনগর: গত সেপ্টেম্বরেই মির্জাপুরের একটি স্কুলে মিড ডে মিলে নুন দিয়ে রুটি পরিবেশনের ছবি ধরা পড়েছিল। জলে এক লিটার দুধ মিশিয়ে ৮১ শিশুকে পরিবেশন করে সপ্তাহখানেক আগেই সমালোচনার মুখে পড়েছিল উত্তরপ্রদেশের মিড-ডে-মিল প্রকল্প। শোনভদ্রের সেই ঘটনার পর আরও ভয়ঙ্কর ঘটনা সেই উত্তরপ্রদেশেরই মুজাফ্ফরনগরে। এ বার মিড ডে মিলের রান্না করা খাবারে মিলল মরা ইঁদুর। এবারে সেই উত্তরপ্রদেশেই মঙ্গলবার মরা ইঁদুর পাওয়া গেল। এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এই বিষয়ে তদন্তের রিপোর্ট চেয়েছে স্থানীয় জেলাশাসক।
মঙ্গলবারের এই ঘটনা যতক্ষণে নজরে এসেছে, তার আগেই অবশ্য জনা পনেরো শিশু-কিশোর সেই খাবার খেয়েও নিয়েছিল। ৯ পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মিড ডে মিলের বরাত পাওয়া সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে জেলা শিক্ষা দফতর।
যদিও,এই বিষয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক অমিত কুমার সিং জানান, ৯ জন পড়ুয়া এবং এক শিক্ষক এই খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি। অসুস্থেরা প্রত্যেকেই মুজাফ্ফরনগরের পঞ্চেন্দা গ্রামের জনতা ইন্টার-কলেজের। ওই অসুস্থদের একজনের প্লেট থেকেই মৃত ইঁদুর পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু, ওই মুহূর্তে কেউ ওই খাবার খায়নি।
ইতিমধ্যেই জেলাশাসক অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। পাতে মরা ইঁদুর দেখে অনেক খুদে পড়ুয়াই বমি করতে শুরু করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুজাফ্ফরনগরের ওই স্কুলে মিড ডে মিল রান্নার দায়িত্বে রয়েছে ‘জনকল্যাণ সংস্থা বিকাশ কমিটি’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এ দিনের খাবার ছিল মূলত ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য। ১৫ জনের মতো পড়ুয়াকে পরিবেশনের পর দেখা যায় ডালের নীচের দিকে রয়েছে একটি মরা ইঁদুর। সঙ্গে সঙ্গেই খাবার পরিবেশন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে যাঁরা খেয়েছিল, তাদের কয়েক জনের পেটেব্যথা, বমির উপসর্গ শুরু হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ৯ জনকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এক পড়ুয়ার বক্তব্য, ‘হ্যাঁ স্যার, আমরা যেই হাতা দিয়ে নীচের দিক থেকে ডাল তুলেছি, দেখি একটা মরা ইঁদুর। ওই ডালের পাত্রের নীচে ছিল ইঁদুরটি।’ স্থানীয় শিক্ষা দফতরের এক কর্মী রামসাগর ত্রিপাঠী বলেন, ‘খাবার তৈরি করেছিল ‘জনকল্যাণ সংস্থা বিকাশ কমিটি’। আজ ডালের মধ্যে মরা ইঁদুর পাওয়া গিয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই খাবার বন্ধ করে দিয়েছি। অসুস্থ বোধ করায় ৯ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তারা সবাই ভাল আছে। কোনও সমস্যা নেই। পুরোটাই সংস্থার দায়সারা মনোভাবের জন্য হয়েছে।’ ওই সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দুঃস্থ শিশুদের দু’বেলা একটু পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার জন্য মিড-ডে মিলের আয়োজন করা। সরকারি তহবিলে এই খাতে ব্যয় হয় একটা বিরাট অংশই। তবে, একটু পুষ্টিকর খাবারের আশায় স্কুলে আসা পড়ুয়াদের সঙ্গে এমন অবিচার কেন?
বারবার এই একই ঘটনা সরকারি স্তরে গাফিলতির চিত্রই তুলে ধরছে।