স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে মৃত্যু হল কলকাতা পুরসভার এক অফিসারের।মৃতের নাম শান্তনু মজুমদার।

পুরসভা সূত্রের খবর, বেশ কয়েকদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের বাসিন্দা শান্তনুবাবু। তাঁর বাবাও ভুগছিলেন জ্বরে। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধপত্র খাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু জ্বর না সারায় তাঁদের দুজনেই খড়দহের এক নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাও চলে। তা সত্ত্বেও কিছুতেই সুস্থ হচ্ছিলেন না শান্তনু।

বৃহস্পতিবার শান্তনুবাবুর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তাঁকে ইএম বাইপাসের ধারে এক নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে সেখানেও চিকিৎসায় বিশেষ সাড়া দেননি শান্তনু মজুমদার।  এরপর শুক্রবার ভোরের দিকে চিকিৎসকরা জানান মৃত্যু হয়েছে ওই পুর আধিকারিকের। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় শান্তনু মজুমদারের বাবা এখনও ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।

কলকাতা পুরসভার অত্যন্ত দক্ষ এবং পরিচিত আধিকারিক ছিলেন শান্তনু মজুমদার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরাজিতে স্নাতক ছিলেন শান্নুবাবু৷ তারপর এমবিএ করেন৷ খড়গপুর আইআইটি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি৷

শান্তনু মজুমদার প্রথম জীবনে এয়ারফোর্সে ছিলেন৷ পরে আইসিএআর-এ যোগ দেন৷ কলকাতা পুরসভায় প্রায় ২০ বছর চাকরি করেছেন তিনি৷ বিভিন্ন আন্তজার্তিক দাবা প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভূমিকা পালন করতেন তিনি৷

এদিকে, পুরসভার পক্ষ থেকে ডেঙ্গু দমনে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। উদ্বিগ্ন পুরকর্তাদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী শহরের কয়েকটি বরোর এগজিকিউটিভ হেল্থ অফিসারদের গাফিলতি। সজাগ নন কয়েক জন কাউন্সিলরও। বৃহস্পতিবার পুর ভবনে বর্তমান ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠকও হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা যা ছিল, অক্টোবরে তা প্রায় চার গুণ বেড়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে শহরের তিনটি বরো এলাকার ১২টি ওয়ার্ডের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত পুরসভা।