কলকাতা: ছটপুজো শেষ হয়েছে। রবীন্দ্র সরোবরে কমেছে পুন্যার্থীদের আনাগোনা। কিন্তু তাঁদের ফেলে যাওয়া ফুল,প্লাস্টিক,যজ্ঞের উপাচার আর আবর্জনার স্তূপে বিষিয়ে উঠেছে সরোবরের জল। সোমবার, এই জলেই ভেসে উঠল মরা মাছ, কচ্ছপ। পুন্যার্থীদের দুই দিনের এই ‘লাগামহীন’ ছট পালনে মারাত্মক বিষাক্ত হয়েছে সরোবরের জল, এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবেশকর্মীরা। দূষণের পরিমান মাপতে সোমবার সরোবরের জলের নমুনা সংগ্রহ করেন পরিবেশকর্মীরা।

এই বছর রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ‘জাতীয় পরিবেশ আদালত’। ছটপুজোর দু’দিন রবীন্দ্র সরোবরের গেট বন্ধ থাকবে বলেও পোস্টার-ব্যানারে নির্দেশিকা জারি করেছিল কলকাতা পুরসভা বা কেএমডিএ। এই রায়কে মান্যতা দেওয়া হবে বলেও জানায় বিহারী সমাজ। কিন্তু, ছটপুজোর দিন অর্থাৎ শনিবার অন্যরকম ছবি দেখা যায় রবীন্দ্র সরোবর চত্বরে। ওই দিন সকালে প্রায় তিন থেকে চারশ জন বহিরাগত সরোবরের তিন নম্বর এবং মাদার ডেয়ারি সংলগ্ন গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে দিয়ে গেট ভেঙে ঢুকে পড়েন তাঁরা। প্রতিবাদ করতে গেলে হেনস্থার শিকার হন স্থানীয় প্রাতঃভ্রমণকারীরা। এত কিছু ঘটে গেলেও পুলিশের দেখা পাওয়া যায়নি।

বেলা গড়াতেই ভাঙা গেট দিয়ে বিনা বাধাতেই দলে দলে লোক ঢুকতে শুরু করে। বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ মূল ফটক খুলে দেয় পুলিশ। এরপর থেকেই লাগামহীন হয়ে ওঠে ছট পুজো পালনে আসা জনতা। সরোবরের জলেই শুরু হয়ে যায় স্নান,কাপড় কাচা। যথেচ্ছারে সরোবরের জলেই ফেলে দেওয়া হয় ফুল,সিঁদুর,ঘি। শনিবারের পর একই ছবি দেখা যায় রবিবারেও। মাঝরাতে ডিজে বক্স, ব্যান্ডপার্টি,তাসা পার্টি আর চকলেট বোমার মুরমুহু আওয়াজে কেঁপে ওঠে সরোবর চত্বর। পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

দূষণের ভয়াবহ ছবিটা ধরা পড়ে সোমবার সকালে। ফুল,বেলপাতা,প্ল্যাস্টিকে বিষিয়ে উঠেছে সরোবরের জল। এ দিন সকালে কলকাতা পুরসভা সরোবরের জল পরিষ্কারে আসরে নামলেও দূষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবেশকর্মীরা।

রবীন্দ্র সরোবরে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ছটপালনে বিরোধিতা করতে শোনা যায়নি শাসক দলকে। অপরদিকে এই ব্যাপারে বিজেপি আবার দোষ চাপিয়েছে শাসক দলের উপরেই। এই দোষ চাপানোর খেলার মাঝেই দূষণে নীলকণ্ঠ হল রবীন্দ্র সরোবর।