স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: অসমে চলছে বাঙালি খেদাও অভিযান। আর সেই পরিস্থিতিতে গত শনিবার তিনসুকিয়ার দুমদামে খুন হতে হয় পাঁশকুড়ার দুই বাসিন্দাকে৷ মৃতদের নাম শেখ ইদ্রিস আলি (৫২) এবং শেখ মহম্মদ ওরফে জহর (৪৩)। তাঁদের নিথর দেহগুলি বাড়িতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে প্রশাসন। ঘটনায় ছুরির আঘাতে জখম হয়েছিলেন শেখ মুস্তাকির ওরফে সোনু নামের পাঁশকুড়া পুরসভার রানীহাটির অপর বাসিন্দা।

আগে থেকেই খবর ছিল মঙ্গলবার অসমে নিহত দুই ব্যক্তির দেহ বাড়িতে আসছে। আর সেই খবর পেয়েই পাঁশকুড়ার গড়পুরুষোত্তমপুরের এবং গোপালনগরের গ্রামে সকাল থেকে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমাতে থাকে। এদিন দুপুর নাগাদ দুই নিহতের কফিন বন্দি দেহ পৌঁছায়। সঙ্গে বাড়ি ফিরেছেন আহত সোনুও। তাঁর বক্তব্যেও স্পষ্ট না খুনের কারণ।

জোড়া খুনের ঘটনায় রবিবার পরিবারের লোকেরা জানিয়েছিলেন তিন চার জনের একটি সশস্ত্র দল বাঙালি পরিচয় জানার পর গলা কেটে খুন করেছিল দুজনকে। কিন্তু সোনু জানিয়েছেন, রাজু নামে এক ব্যক্তি তাদের সঙ্গেই রাজমিস্ত্রির কাজ করত৷ সে তাদের পাশের ঘরে থাকত। ঘটনার দিন কাজ বন্ধ ছিল। তাই সবাই বাড়িতে ছিল। রাতে রান্না করছিলেন সোনু। সেই সময় অন্যঘরে কিছু ঘটেছে আঁচ করে ছুটে আসেন তিনি। ঘরে গিয়ে সোনু দেখে শেখ ইদ্রিস আলি ও শেখ মহম্মদের মৃতদেহ ঘরে পরে আছে৷

সেই সময় সোনুকেও খুনের চেষ্টা করে রাজু। কিন্তু ভাগ্যের জোরে ঘাড়ের বদলে ছুরির কোপ তাঁর হাতে বসে৷ সোনু চিৎকার করলে পালিয়ে যায় রাজু। ঘটনার পর রাজু ছুরি হাতে নিজেই আত্মসমর্পণ করে থানায়। কী কারণে আচমকা ঘটল এমন? কোনও জবাব নেই সোনুর কাছে।

ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে এই খুন বলে অনুমান পুলিশের। এই একই কথা পাঁশকুড়া থানার পুলিশকেও জানিয়েছে অসম পুলিশ। পুলিশ ঘটনার তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিন দুটি দেহ আসার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে পরিবারের আত্মীয়রা৷