সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: মানবিকতার শৃঙ্গও জয় করলেন মৃত পর্বতারোহী বিপ্লব বৈদ্য। কাঞ্চনজঙ্ঘা জয় করে ফেরার পথে তাঁর প্রান গিয়েছিল পাহাড়ের কোলে। প্রাণ ছেড়ে চলে গিয়েছে দেহ ছেড়ে কিন্তু মানবতার শিখরে পৌঁছে তিনি বেঁচে থাকবেন প্রত্যেক বাঙালির মনে, অন্য কারও শরীরে। অঙ্গ দান করে দিয়ে গিয়েছিলেন যে বিপ্লব।

পশ্চিমবঙ্গের পর্বতারোহণ মহলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেল বাংলার বিপ্লব বৈদ্য। ১৮ বছর আগে ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ২৮ তারিখ বিপ্লব বৈদ্য মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছিলেন। স্বাক্ষী হিসেবে ছিলেন পাইকপাড়া রো-এর বিশ্বজিৎ দে আর বি টি রোডের শাওন সেন।

বিপ্লব নেই কিন্তু তাঁর জীবনের লড়াই চলবে অন্য কারও জীবন বাঁচিয়ে। ২৬ তারিখ সন্ধ্যে ৬ টায় বিপ্লব বৈদ্যের মরদেহ পৌঁছবে দমদম বিমানবন্দরে। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে আসা হবে সল্টলেকে তার কর্মস্থল পরিবেশ ভবনে। পরিবেশ ভবন থেকে এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এনটমি ডিপার্টমেন্ট এ চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেহ দান করা হবে। গণদর্পনের উদ্দোগে সমস্ত কাজ সম্পন্ন হবে।

৪ এপ্রিল, ২০১৯। কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ অভিজানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন সোনারপুর আরোহী ক্লাব থেকে বিপ্লব বৈদ্য ও রুদ্রপ্রসাদ হালদার, হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট মাউন্টেনিয়ার্স অ্যান্ড ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের কুন্তল কাঁড়ার, মাউন্ট কোয়েস্ট ক্লাবের রমেশ রায় আর ইছাপুরের সাহাবুদ্দিন।

কলকাতা থেকে রওনা দিলেও প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙের অভিযান পিছোতে থাকে। অবশেষে ১৪মে মূল সামিটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারপরের দিন ১৫ মে মূল সামিটের যাওয়ার আগেই কুন্তল কাঁড়ার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মারা যান। বাকী চার জন মূল লক্ষ্যে পৌঁছে যান। রুদ্রপ্রসাদ হালদার ও রমেশ রায়ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখন তারা সুস্থ আছেন। কিন্তু ফেরার পথে ক্যাম্প ফোরের আগে বিপ্লব বৈদ্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

শনিবার রাত ৮ টার সময় কুন্তল কাঁড়ারের মরদেহ আসছে দমদম এয়ারপোর্টে। দমদম এয়ারপোর্ট থেকে কুন্তল কারার কে নিয়ে যাওয়া হবে পিস্ ওয়ার্ল্ড এ। ২৬ শে মে সকাল ৬ টার সময় পিস্ ওয়ার্ল্ড থেকে কুন্তল কে নিয়ে যাওয়া হবে হাওড়া মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাবে।

শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন জানানোর জন্য। ক্লাব প্রাঙ্গণে থেকে কুন্তল কাঁড়ারের বাসভবন যাবে দেহ। জনসাধারণের জন্য হাওড়া অন্নপূর্ণা ব্যায়াম সমিতি প্রাঙ্গণে রক্ষিত থাকবে কুন্তল কারার এর মরদেহ।সকাল ৮ টার সময় অন্তিম যাত্রা শুরু বাঁশতলা শ্মশান ঘাটে। কুন্তল কাঁড়ারের পরিবারের কাছেও গণদর্পণ-এর পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বার্থে তাঁর মরদেহ দান করার জন্য।