নয়াদিল্লি: ফের মোদী সরকারের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিল ‌মুডিজ ইনভেস্টর সার্ভিস। সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মুডিজ যাতে জানান হয়েছিল, ভারতীয় অর্থনীতিতে ঝিমুনি দীর্ঘস্থায়ী হবে। এবার বৃহস্পতিবার এই মূল্যায়ন সংস্থাই আরও একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে৷ তাতে সেই একই অবস্থানে অনড় থেকেছে। ওই মূল্যায়ন সংস্থা জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০১৯–২০ সালে ভারতের জিডিপি হার কমে হবে ৫.‌৬ শতাংশে৷ যেখানে আগে ভাবা হয়েছিল এই অর্থবর্ষে ভারতে জিডিপি বৃদ্ধি হার ৫.‌৮ শতাংশ হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮–১৯ অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.‌৪ শতাংশ। পাশাপাশি যদিও মুডিজের দাবি, আগামী দিনে অর্থাৎ ২০২০ এবং ২০২১ সালে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.‌৭ শতাংশে পৌঁছ যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২৪ সালের মধ্যে মোদীর স্বপ্নের লক্ষ্যমাত্রার অর্থনীতি অর্থাৎ পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যেতে হলে যে গতিতে বৃদ্ধি হওয়া উচিত ছিল সেটা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

মুডিজ জানাচ্ছে, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই ভারতের অর্থনীতিতে ঝিমুনি দেখা গিয়েছিল। তখন থেকেই অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে সতর্ক করছিলেন। এছাড়াও কেন্দ্রের নোট বাতিল এবং জিএসটি নীতির ফলে দেশের অর্থনীতির গতি নিম্নগামী হতে দেখা গিয়েছে, তার প্রতিফলন মিলেছে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক রিপোর্টেই ৷

অবশ্য নানা ভাবে সমালোচনার মুখে পড়ে মোদী সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে কর্পোরেট করের বোঝা। কিন্তু পরিস্থিতি উন্নতি তাতেও খুব একটা দেখা যায়নি। যদিও কর কমানোর সিদ্ধান্ত রাজস্বের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে এই মূল্যায়ন সংস্থা। সংস্থার মনে করছে, করের বোঝা কমানোর ফলে রাজকোষে ঘাটতি আরও বাড়তে পারে৷ তখন ঋণের বোঝাও বাড়বে। তাছাড়া বেশ কয়েকবার সুদের হার কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক। লগ্নি বাড়াতে এমন নীতি প্রয়োগ করলে তখন দেশে স্ট্যাগফ্লেশন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে কম হবে। ‌‌