প্রতীকী ছবি

যোধপুর: নতুন করে অশান্তি ছড়াল রাজস্থানে৷ দলিত বিক্ষোভের আঁচ এসে পড়ল শাসক দলের ঘরে৷ খোদ  বিজেপির এক দলিত বিধায়কের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিল ক্ষিপ্ত জনতা৷ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় কংগ্রেসের এক প্রাক্তন দলিত বিধায়কের বাড়িতেও৷ যদিও বরাত জোরে বেঁচে যান দু’জনেই৷ এই ঘটনায় পুলিশ ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে৷

সোমবারের ভারত বন্ধে নজিরবিহীন হিংসার সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ৷ উত্তর-মধ্য ও পূর্ব ভারতের একাংশে ছড়িয়ে পড়ে দলিত বিক্ষোভ৷ প্রাণ যায় ১১ জনের৷ মঙ্গলবারও একাধিক রাজ্যে বিক্ষিপ্ত ভাবে হিংসার ঘটনা ঘটেছে৷ এদিন রাজস্থানের কারাউলি জেলার হিন্দুয়ান শহরে প্রায় ৫০০০ মানুষ জড়ো হয়৷ ক্ষিপ্ত জনতা এরপর বিজেপি বিধায়ক রাজকুমার যাতভ ও কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক ভারোসিলাল যাতভের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ যদিও সেই সময় জেলায় ছিলেন না এই দুই নেতা৷

জেলার পুলিশ সুপার অনিল খেয়াল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মোট ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ নতুন করে যাতে অশান্তি না ছড়ায় তার জন্য জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে৷ বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে তফশিলি অধ্যুষিত এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে৷ কিন্তু তার আগে পুলিশ তাদের বাধা দেয়৷ সেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়৷ বিক্ষোভকারীদের সরাতে কাদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ৷

জানা গিয়েছে, এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশিরভাগই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অথবা উচ্চবর্ণের৷ দলিত বিক্ষোভের জেরে সোমবার তাদের ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷ অনেক দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়৷ তারই পাল্টা জবাবে দুই দলিত নেতার উপর ক্ষোভ উগরে দেন ব্যবসায়ীরা৷

দলিত বিক্ষোভের ২৪ ঘন্টা পরেও থমথমে রাজস্থান৷ একাধিক জেলায় এখনও আইন শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি৷ ছুরু ও গঙ্গাপুর শহরে সোমবার রাত থেকে কার্ফু জারি৷ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া অবধি বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট পরিষেবা৷