ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে নেই দাউদ ইব্রাহিম। বৃহস্পতিবার পাক বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে একথা জানানো হয়েছে। একদিন আগেই ইউকে-র আদালতে জানানো হয় যে ১৯৯৩ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত গ্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিম পাকিস্তানেই আছেন।

এদিন পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল বলেন, ‘দাউদ পাকিস্তানে নেই।’ এদিন সাংবাদিক বৈঠকে একধা জানান তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবারই, মার্কিন সরকার এ কথা নিশ্চিত করে লন্ডন আদালতকে জানাল যে, ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদী দাউদ ইব্রাহিম ও তাঁর অপরাধের আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট রয়েছে পাকিস্তানের করাচিতে।

সোমবার ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে দাউদের খাস লোক হিসেবে পরিচিত জাবির মোতিওয়ালার প্রত্যর্পণের শুনানি ছিল। সেখানেই মার্কিন সরকারের আইনজীবী জন হার্ডি কিউসি আদালতে জানান, ‘নিউ ইয়র্কের FBI পাকিস্তান, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে সক্রিয় ডি কোম্পানির বিষয়ে তদন্ত করছে। সংস্থার প্রধান দাউদ ইব্রাহিম পাকিস্তানে নির্বাসনে রয়েছেন।

আরও জানানো হয়েছে যে দাউদ ইব্রাহিম ও তার দাদা ১৯৯৩ সাল থেকে ভারতে পলাতক আর গত ১০ বছর ধরে তাঁরা আমেরিকায় বিশেষত আর্থিক তছরুপ ও তোলাবাজিতে সক্রিয়। FBI-এর তদন্তে জানা গিয়েছে, মোতিওয়ালা সরাসরি দাউদকে রিপোর্ট করেন এবং তাঁর প্রধান কাজ হল তোলাবাজি, ঋণ আদায় ও অর্থ তছরুপ।’

গোপন তথ্য পেয়ে গত অগস্টে আর্থিক তছরুপ ও মাদক পাচারের অভিযোগে ডি-কোম্পানির অন্যতম চাঁই তথা দাউদ ইব্রাহিম ঘনিষ্ঠ সেই জাবির মোতিওয়ালাকে লন্ডন থেকে গ্রেফতার করেছিল স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। কিন্তু এবার আমেরিকার হাতে জাবিরের প্রত্যর্পণ আটকাতে উঠেপড়ে লেগেছেন ব্রিটেনে কর্মরত পাক কূটনীতিবিদরা।

শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের আশঙ্কা, জাবিরকে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হলে দাউদের অন্ধকারজগতের সঙ্গে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর আঁতাঁত সামনে এসে পড়বে। সম্ভবত সে কারণেই লন্ডনে পাক হাইকমিশন আগেই জাবিরের তরফে আদালতে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, অভিযুক্ত পাকিস্তানের ‘একজন প্রথিতশা ও মান্যগণ্য ব্যবসায়ী।’ এবং সেই ভিত্তিতেই আর্জি জানানো হয়েছিল, আমেরিকায় যেন তাঁকে প্রত্যর্পণ না করা হয়। কিন্তু গত বছর জাবিরকে ধরার জন্য যে ভাবে আঁটঘাঁট বেঁধে তৈরি হয়েছিল এফবিআই।