ইসলামাবাদঃ ক্রমেই পাকিস্তান হয়ে উঠছে করোনা ভাইরাসের এপিসেন্টার। তারপরেও কোন পরিবর্তন নেই পাক সরকারের। ধীরে ধীরে সে দেশে আলগা করা হচ্ছে লকডাউনের রাশ। তবে তারই মধ্যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ঘেরাটোপে থাকা ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী দাউদ ইব্রাহিমের করোনা আক্রান্তের খবর সামনে এসেছিল। তবে সেই খবর একেবারেই সত্যি নয়, এমনটাই জানিয়েছেন দাউদ ইব্রাহিমের ভাই অনীশ ইব্রাহিম।

শুধু দাউদ ইব্রাহিমই নয়, তার স্ত্রী কোভিড ১৯ আক্রান্ত হয়ে করাচি সেনা হাসপাতালে ভর্তি। এমনটাই খবর প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই খবরও উড়িয়ে দিয়েছে দাউদের ভাই। তবে দাউদের ভাই অনীশ যিনি ডি কোম্পানির অন্যতম এক কর্তা এবং সকল অর্থনৈতিক লেনদেন এবং অপরাধমূলক কাজ সামলান তিনি জানিয়েছেন সুস্থ আছেন ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী দাউদ ইব্রাহিম কাসকর।

অনীশ এও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পাকিস্তানে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এই করোনা ভাইরাসের কারণে। তবে তার পরিবার সুস্থ রয়েছেন। পাকিস্তানে থেকেই সেই দেশ এবং সংযুক্ত আরব আমীরসাহিতে ব্যবসা সামলাচ্ছেন দাউদ ইব্রাহিম। কিছুদিন আগে জানা গিয়েছিল তারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত। তারই সঙ্গে ব্যক্তিগত কর্মীদের ইতিমধ্যে কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং সেখানকার প্রশাসনিক কর্তাদের সহায়তাতে পাকিস্তানে দিব্যি বসবাস করছেন দাউদ ইব্রাহিম। ১৯৯৩ সালের মুম্বই বোমা বিস্ফোরণের পর থেকেই ভারতের তরফে দাবি করা হয়েছিল পাকিস্তানেই রয়েছে দাউদ ইব্রাহিম কাসকর। তবে ভারতের দাবি বারবার নাকচ করেছে ইসলামাবাদ।

ডি কোম্পানির অন্যতম শার্প শুটার এবং তোলাবাজি ও বেটিং সিণ্ডিকেটের প্রধান ছোটা শাকিল এই মুহূর্তে করাচিতে বসবাস করছে বলে জানা গিয়েছে। অনীশ ইব্রাহিম জানিয়েছেন ভাই এবং শাকিল সুস্থ রয়েছেন। তাদের কেউ করোনা সংক্রমিত হননি। তবে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করাতে কোন উত্তর দেননি। ১৯৯৪ সাল থেকে পাকিস্তানের বাসিন্দা দাউদ ইব্রাহিম এবং তার পরিবার।

দাউদ ইব্রাহিমের মেয়ে মাহ্রুখ প্রাক্তন পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলেকে বিয়ে করে সেখানেই রয়েছেন। ডি কোম্পানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অনীশ শিরোনামে আসেন ৯০ এর দশক থেকে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের বাড়িতে অস্ত্র সমেত গাড়ি রাখা থেকে শুরু করে ক্রিকেটে বেটিং সহ বেশ কিছু কাজের জন্য শিরোনামে আসেন।

এছাড়া মুম্বইতে কিছু সিনেমার সঙ্গেও তার যোগ পাওয়া গিয়েছিল। কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে ধরা পরতে পরতে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তার কথাতে এটা পরিস্কার যে পাকিস্তানে দিব্যি আরামে রয়েছেন ভারতের এই মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প