নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় আছে ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ দাউদ ইব্রাহিম। একথা নতুন নয়। তবে এবার দাউদ ঘনিষ্ঠের কাছ থেকেই পাওয়া গেল সেই তথ্য।

সম্প্রতি মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে গ্রেফতার হয়েছে এজাজ লাকড়াওয়ালা। দাউদ ইব্রাহিম আর ছোটা রাজনের ঘনিষ্ঠ ছিল এই ইজাজ। সেই জেরায় জানিয়েছে যে, পাকিস্তানের করাচিতেই আছে দাউদ ইব্রাহিম। তাকে পাটনা থেকে মুম্বইতে এনে জেরা করা হয়েছে।

সে জানিয়েছে যে পাকিস্তানের আইএসআই-এর ঘেরাটোপে আছে দাউদ ইব্রাহিম। সেরা কমান্ডোদের দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে দাউদকে। ছোটা শাকিলকেও নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আগেই এই লাকড়াওয়ালা জেরায় জানিয়েছিল যে, মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের শরীরের একাধিক অংশে পচন ধরতে শুরু করেছে।

এই মুহূর্তে পাকিস্তানেই রয়েছে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম। পাকিস্তান থেকেই দাউদ তার ডি-কোম্পানি চালাচ্ছে। পাকিস্তানে দাউদের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে ধৃত ইজাজ লাকড়েওয়ালা। তবে শারীরিকভাবে নাকি দাউদ এখন ভীষণ অসুস্থ। মাফিয়া ডনের শরীরের একাধিক অংশে নাকি পচন ধরতে শুরু করেছে। মুম্বই পুলিশের জেরায় এমনই জানিয়েছে দাউদ ঘনিষ্ঠ ইজাজ।

পুলিশকে ইজাজ আরও জানায়, পাকিস্তানেই নিয়মিত চিকিৎসা করানো হচ্ছে দাউদের। শরীরের পচন সারাতে নিয়মিত কড়া ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে মাফিয়া ডনকে। এখনও নাকি নিয়মিত হজ-যাত্রায় যায় দাউদ ইব্রাহিম। পাকিস্তান বরাবর বলে এসেছে সে দেশে ভারতের মোস্ট ওযান্টেড জঙ্গি দাউদ ইব্রাহিম নেই। তবে বৃহস্পতিবার দাউদ ঘনিষ্ঠ ইজাজ পুলিশএর জালে ধরা পড়ায় আরও একবার বিশ্বের কাছে পাকিস্তানের মুখ পুড়ল।

দু’দশক ধরে দাউদের ডি কোম্পানির অন্যতম মাথা ইজাজ লাকড়েওয়ালা। বেশ কয়েকদিন ধরেই ইজাজ ভারত ছেড়ে পালাতে চেষ্টা করছিল। ভারত ছাড়ার আগেই মুম্বই পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় ইজাজ। ইজাজকে ধরে দিতে সাহায্য করে তার কন্যা শিফার পাসপোর্ট। ইজাজ দেশ ছাড়ার আগে তার মেয়ে শিফা নেপালে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় শিফার কাছ থেকে জাল পাসপোর্ট উদ্ধার হয়। জাল পাসপোর্টের সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে মুম্বই পুলিশ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই শেষমেশ দাউদ ইব্রাহিম ঘনিষ্ঠ ইজাজ লাকড়েওয়ালার খোঁজ মেলে।

ইজাজকে জেরা করে দাউদ ইব্রাহিম সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে মুম্বই পুলিশ। মুম্বই পুলিশের দাবি, শুধু দাউদই নয়, এদেশে কোথায় কোথায় দাউদের নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় আছে, ইজাজকে জেরায় সেই সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে।