লন্ডন : মোস্ট ওয়ান্টেড টেররিস্ট৷ একাধিক মামলা তার বিরুদ্ধে৷ সেই কুখ্যাত দাউদ ইব্রাহিম রয়েছে পাকিস্তানেই৷ এমনই তথ্য দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ ব্রিটেনের লন্ডন আদালতকে দেওয়া এক রিপোর্টে এই তথ্যের কথা উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন৷ পাকিস্তান বরাবরই বলে এসেছে তাদের দেশে দাউদ নেই৷ পাকিস্তানের দেওয়া তথ্যকে ফের মিথ্যা প্রমাণ করল আমেরিকা৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেন আদালতকে জানিয়েছে করাচিতে নিজের সাম্রাজ্য বানিয়েছে কুখ্যাত এই ডন৷ দাউদের ডান হাত জাবির মোতির প্রত্যর্পণের মামলার শুনানি চলছিল লন্ডনের এই আদালতে৷ তখনই এক বয়ানে এই তথ্য তুলে ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ ৫১ বছরের জাবির স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ডের হাতে গত বছর গ্রেফতার হয়৷ সোমবার থেকে ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সেই মামলা শুরু হয়৷

লন্ডনে দাউদের আর্থিক লেনদেনের হিসেবরক্ষক হিসেবে কাজ করত জাবির৷ জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা থেকে আসা দাউদের আর্থিক লেনদেন দেখত সে৷ পাশাপশি ড্রাগ পাচার, বেআইনি অস্ত্র পাচারের দিকটিও সামাল দিত৷ দাউদের স্ত্রী মেহেজবিনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জাবিরের৷ বর্তমানে পাকিস্তানের অভিজাত ক্লিফটন এলাকায় দাউদের সঙ্গে থাকে মেহেনজিব৷

আরও পড়ুন : ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়ে মাওবাদী নাশকতার কাজে ব্যবহার শিশুদের : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

দাউদের ডি কোম্পানীর বিদেশের ব্যবসা জাবিরের হাতেই ছিল৷ বিদেশ থেকে ডি কোম্পানীর জন্য টাকা আসত জাবির মোতির হাত ধরেই৷ দাউদের ঘনিষ্ঠ মহলে জাবির মোতি জাবির সিদ্দিকি নামে পরিচিত৷ পাকিস্তানের নাগরিক জাবির ইব্রাহিমের ডি কোম্পানির প্রধান হিসেব রক্ষক ছিল৷

জানা যাচ্ছে, ড্রাগ পাচারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপহরণ, ব্যাঙ্ক লুঠের মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ বারাবুদার ও আন্টিগুয়াতে ভুয়ো নাগরিকত্ব নিয়ে ছিল জাবিরের৷ তবে দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনে ঘাঁটি করে ছিল সে৷ ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে লন্ডনের একটি হোটেল থেকে জাবিরকে গ্রেফতার করা হয়৷

শুধু জাবিরই নয়, দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল দাউদ ঘনিষ্ঠ ফারুখ টাকলাকে৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও পাক মাটি ব্যবহার করে দাউদের বসবাসের একাধিক প্রমাণ পেয়েছিল ভারত৷ ২০১৪ সালে দাউদ সংক্রান্ত এইসব তথ্য পাকিস্তানের হাতে তুলে দেয় ভারত৷ তবে বারবারই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে৷

আরও পড়ুন : মন্দিরে হামলার ঘটনায় পুলিশ কমিশনারকে ডেকে পাঠালেন অমিত শাহ

ফারুখকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছিল দুবাইয়ে যাওয়ার জন্য যাবতীয় সহায়তা, নিরাপদ বাসস্থান-এসবই পায় কুখ্যাত মাফিয়া ডন দাউদ৷ তাও আবার পাকিস্তানে৷ গা ঢাকা দিয়ে থাকতে তাকে সাহায্য করেছিল পাক সেনা, কোস্ট গার্ড৷ জি নিউজ সেই রিপোর্ট প্রকাশ করে৷

ফারুখ জেরায় জানিয়েছিল পাকিস্তান সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা না থাকলে কোনওভাবেই দাউদ সেদেশে আত্মগোপন করতে পারত না৷ শুধু তাই নয়, তার নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করেছিল পাকিস্তান সেনা৷