মেলবোর্ন: সিরিজের ফয়সালা হয়ে গিয়েছিল আগেই। তাই খাতায়-কলমে মেলবোর্নে তৃতীয় টি-২০ ম্যাচটি ছিল নিয়মরক্ষার। প্রথম দু’ম্যাচে হতশ্রী ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পর তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের কিছুটা শ্রী ফিরলেও ফলাফলে কোনও বদল হল না। প্রথম দু’ম্যাচের রেশ বজায় রেখে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও ব্যাট হাতে দুরন্ত হয়ে উঠলেন ডেভিড ওয়ার্নার। আর বাঁ-হাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যানের ব্যাটে ভর করেই টি-২০ সিরিজে দ্বীপ রাষ্ট্রকে ‘ক্লিন সুইপ’ করল অজিরা। সিরিজের অন্তিম টি-২০ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ পকেটে পুড়ে নিল অস্ট্রেলিয়া।

মেলবোর্নে এদিন টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। দুই ওপেনার ব্যর্থ হলেও তৃতীয় উইকেটে কুশল পেরেরা ও আবিষ্কা ফার্নান্দো জুটিতে নির্ভর করে তৃতীয় ম্যাচে কিছুটা ভদ্রস্থ রান স্কোরবোর্ডে তোলার ইঙ্গিত দেয় দ্বীপরাষ্ট্র। কিন্তু পেরেরার সঙ্গে জুটিতে ৪৩ রানের অবদান রেখে ব্যক্তিগত ২০ রানেই ডাগ-আউটে ফেরেন ফার্নান্দো। এরপর অর্ধশতরান করে পেরেরা স্কোরবোর্ড সচল রাখলেও বড় রান গড়ে তোলার জন্য দ্বিতীয় কোনও ব্যাটসম্যানের সহায়তা পাননি তিনি। ৪টি চার ও ১টি ছয় সহযোগে ৪৫ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে পেরেরা যখন আউট হন, দলের রান তখন ১৬.১ ওভারে ৫ উইকেটে ১১০।

শেষদিকে ভানুকা রাজাপক্ষের ১১ বলে ১৭ রানের অপরাজিত ইনিংস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪২ রানে পৌঁছে দেয় শ্রীলঙ্কাকে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক, কেন রিচার্ডসন ও প্যাট কামিন্স। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের রান দেড়শোর মধ্যে বেঁধে রাখেন রিচার্ডসন ও কামিন্স।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন দুই অজি ওপেনার। মূলত ফিঞ্চ-ওয়ার্নারের ব্যাটেই জয়ের গন্ধ পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ১৫ রানে একবার জীবন ফিরে পাওয়ার পর ২৫ বলে ঝোড়ো ৩৭ রানের ইনিংস খেলে আউট হন অধিনায়ক ফিঞ্চ। মাত্র ৮.৫ ওভারে দলের রান তখন ৬৯। এরপর মাত্র ১৩ রানে স্মিথ ও ৫ রানে ম্যাকডেরমটের উইকেট খোয়াতে হলেও শ্রীলঙ্কার ম্যাচে ফেরার মতো পরিস্থিতি একবারের জন্যও তৈরি হয়নি। শেষ অবধি অ্যাস্টন টার্নারকে সঙ্গে নিয়ে অপরাজিত অর্ধশতরানে দলের জয় নিশ্চিত করেন ওয়ার্নার।

৪টি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ৫০ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়ার্নার। অন্যদিকে ২টি ছয়ের সাহায্যে ১৫ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন টার্নার। ১৪ বল বাকি থাকতে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই ম্যাচ পকেটে পুড়ে নেয় অজিরা। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ১০০, দ্বিতীয় ম্যাচে ৬০ রানের পর তৃতীয় ম্যাচে অপরাজিত ৫৭। স্বাভাবিকভাবেই টুর্নামেন্ট সেরা হিসেবে ওয়ার্নার ব্যতিত অন্য কাউকে বেছে নেওয়ার অবকাশই ছিল না নির্বাচকদের।