লন্ডন: বাইশ গজে ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাট রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে প্রতিপক্ষ বোলারদের৷ এবার তাঁদের রাতের ঘুম কাড়তে এলেন ছোট্ট ওয়ার্নার৷ বিশ্বকাপের মধ্যেই বাবা হলেন অজি ব্যাটসম্যান৷ রবিবার রাতে লন্ডনের এক হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ওয়ার্নারের স্ত্রী ক্যান্ডিক৷

২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের দু’দিন আগে বাবা হলেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি৷ তবে বিশ্বকাপের পর দেশে ফিরে মেয়ের মুখ দেখেছিলেন ভারত অধিনায়ক৷ কিন্তু ওয়ার্নারের ক্ষেত্রে এমনটা হয়নি৷ সন্তানসম্ভাবা স্ত্রী ও দুই কন্যকে নিয়েই বিশ্বকাপে খেলেতে আসন বাঁ-হাতি অজি ওপেনার৷ রবিবার রাতে তৃতীয় সন্তানের বাবা হন ওয়ার্নার৷

গত সপ্তাহে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে ৩২ বছরের অজি ব্যাটসম্যান বলেছিলেন, ‘বাবা হিসেবে আমি গর্বিত৷ আমার স্ত্রী অত্যন্ত সাপোর্টিভ৷ তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে আমার দারুণ লাগে৷’ আর রবিবার নিজের ইনস্টাগ্রামে পরিবারের নতুন সদস্যের ছবি পোস্ট করে ওয়ার্নার লেখেন, ‘পরিবারের নতুন সদস্য ইসলা রোজ ওয়ার্নারকে স্বাগত৷ রবিবার রাত ১০.৩০ মিনিটে ও আবির্ভাব হওয়া দারুণ অনুভূতি৷’

কিন্তু গত এক বছর ওয়ার্নারের জীবনটা এত সুন্দর ছিল না৷ গত বছর মার্চে কেপ টাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কাণ্ডে এক বছর নির্বাসিত ছিলেন ওয়ার্নার ও অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ৷ এক বছর নির্বাসন কাটিয়ে বিশ্বকাপে ঠিক আগে অস্ট্রেলিয়া দলে ফেরেন এই দুই তারকা ক্রিকেটার৷ এই সময়ে তাঁর দুঃস্বপ্নের কথা কয়েক দিন আগেই জানিয়েছিলেন ওয়ার্নার৷ তাঁর নির্বাসন থাকাকালীন স্ত্রী ক্যান্ডিকের দু’বার মিসকারেজ হয়েছিল বলেও জানান বাঁ-হাতি অজি ওপেনার৷

তবে নির্বাসন কাটিয়ে দেশের জার্সিতে ফিরেই দুরন্ত ওয়ার্নার৷ চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাঁর দখলে৷ ৮ ম্যাচ সর্বোচ্চ ৫১৬ রান করেছেন ওয়ার্নার৷ অজি ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে দু’টি সেঞ্চুরি৷ এই বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬৬ রানও এসেছে ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে৷ মুলত তাঁর ব্যাটে ভর করে লিগে দু’ ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পৌঁছে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া৷ ৮ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া৷ লিগে অজিদের শেষ ম্যাচ শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে৷ এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ একটি ম্যাচ হেরেছে অস্ট্রেলিয়া৷ আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও তৃতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে হারে অজিবাহিনী৷ তার পর থেকে অবশ্য পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি অজিদের৷