রামায়ণে উল্লেখিত চরিত্রগুলির মধ্যে রাজা দশরথের চার পুত্র ছাড়াও এক কন্যা ছিলেন৷ নাম শান্তা৷ কোনও কোনও সংস্করণ অনুসারে তিনি নাকি অযোধ্যারাজ ঈক্ষ্বাকু বংশীয় দশরথের প্রথম সন্তান৷ রামায়ণের কোনও কোনও ভাষ্য বলছে, প্রথমে দশরথ ও কৌশল্যার কোল আলো করে এসেছিল কন্যাসন্তান৷ পুত্র্যেষ্টি যজ্ঞের পর দশরথের চার পুত্রের জন্ম হয়৷ সেই অনুসারে দশাবতারের এক অবতার শ্রীরামচন্দ্রের বড় বোন ছিলেন শান্তা৷

শান্তার জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে রয়েছে নানা কাহিনি৷ সেগুলির এক-একটি থেকে এক এক রকম সূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়৷  যেমন একটি ভাষ্য বলছে, শান্তার জন্মের পর থেকেই পিতা দশরথ ও মাতা কৌশল্যার মুখ ছিল থমথমে৷  অতঃপর কৌশল্যার বোন ভার্ষিণীর কাছেই অঙ্গদেশে বড় হতে থাকেন অযোধ্যারাজের একমাত্র কন্যা শান্তা৷ অঙ্গদেশের রাজা রোমপাদ ও স্ত্রী ভার্ষিণী তাঁকে দত্তক নিয়েছিলেন এবং লালনপালন করেছিলেন৷ একবার এক ব্রাহ্মণ রাজা রোমপাদের কাছে অপমানিত হন৷ তার পর সেই ব্রাহ্মণের অভিশাপে অঙ্গদেশে খরা দেখা দেয়৷ সেই খরা থেকে মুক্তি পেতে যজ্ঞ করান রাজা রোমপাদ৷ ঋষি ঋষ্যশৃঙ্গের সেই যজ্ঞে খরার হাত থেকে রক্ষা পায় অঙ্গদেশ৷ এই ঋষ্যশৃঙ্গ মুনিকে দিয়েই পরে পুত্র্যেষ্টি যজ্ঞ করান রাজা দশরথ৷ অতঃপর তাঁর চার পুত্র জন্মলাভ করে৷

রামায়ণের আর একটি ভাষ্য বলছে, কন্যাসন্তান রাজ্যশাসন করতে পারবেন না বলেই রাজা দশরথ তাঁর একমাত্র কন্যা শান্তাকে শাস্ত্রশিক্ষার জন্য আশ্রমে পাঠিয়ে দেন৷ সেখানে শান্তা শাস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী হলে তাঁর পিতা রাজা দশরথ নাকি তাঁর বিবাহ দেন পুত্র্যেষ্টি যজ্ঞের হোতা ঋষ্যশৃঙ্গের সঙ্গে৷ কারণ, তখন তরুণ ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির ব্রহ্মচর্য ঘুচে গিয়েছে৷ এমনই নানা মত রয়েছে শান্তার জন্মকথায়৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ