লখনউ: মুসলিম বিয়ের নিয়মে একগুচ্ছ পরিবর্তন আনল দারুল উলুম দেওবন্দ। মুসলিম বিয়েতে নাকি এমন কিছু রীতি প্রচলিত রয়েছে, যা আসলে ইসলাম-বিরোধী। তাই সেসব রীতি নাকি ছেঁটে ফেলতে হবে। এমন ফতোয়াই দেওয়া হয়েছে।

এসব নিয়মের কোপে পড়েছে মুসলিম বিয়ের লাল-খত। একটি লালরঙের কার্ড বিয়ের সময় কনের বাড়ি থেকে পাত্রপক্ষকে দেওয়া হয়। এটি আসলে আমন্ত্রণপত্র। সেটি এবার আর দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে ফতোয়ায়। এছাড়া বিয়ের আগে কনেকে ডোলির কাছে নিবে যায় কনের মামা। এতে নাকি যৌন আকাঙ্খা তৈরি হতে পারে। তাই সেই রীতিও তুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে এক মুসলিম ধর্মগুরু জানিয়েছেন লাল-খত আসলে বিদেশি রীতি। এর সঙ্গে ইসলামের কোনও যোগ নেই। তাই এই রীতি তুলে দেওয়া উচিৎ। সাধারণ চিঠি বা ফোনের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানোই উচিৎ বলে মনে করছেন তিনি।

ফতোয়া বেঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, মামার সঙ্গে ভাগ্নির সম্পর্ক খুবই পবিত্র। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক ভাগ্নিকে তুলে নিয়ে যাওয়াটা মোটেই ইসলামে মোটেই কাম্য নয়। এতে পরস্পরের প্রতি কামনা তৈরি হয়ে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, কনে যে নিজে হেঁটে ডোলির দিকে যায় কিংবা তার মা তাকে নিয়ে যায়।

গয়না নিয়েও রয়েছে ফতোয়া। গয়নার মধ্যে কোনও ছবি থাকতে পারবে না। এই সব রীতি মুসলিমদের কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিছুদিন আগেই নেল পালিশ নিয়ে ফতোয়া জারি করে দারুল উলুম। গত রবিবার উত্তরপ্রদেশে দারুল-উলুম সংগঠনের ইমাম নিজেই এই ফতোয়া জারি করেন। তিনি বলেন, নখ বাড়লেও তা কাটা উচিত নয়, এমনকী নেল পলিশে নখ রঙিন করাও ইসলামে নেই। মুসলিম মহিলারা যেন হাতে মেহেন্দি পরেন ।

দারুল-উলুমের যুক্তি, জল পড়লেই নেলপলিশ উঠে যায়। বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে তৈরি নেলপলিশের রং কৃত্রিম হওয়ায় তা ইসলাম বিরোধী। সেখানে, মেহেন্দি পুরোপুরি প্রাকৃতিক। মুসলিম মহিলাদের নখ, হাত মেহেন্দিতে ভরে থাকলেই ইসলামের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে।