স্টাফ রিপোর্টার, দার্জিলিং: বিমল গুরুংকে কাছে টেনে নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিনয়পন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। গুরুংয়ের প্রত্যাবর্তনে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে রবিবার সোনাদায় গুরুং বিরোধিতায় মিছিল করল তারা।

দিন কয়েকের মধ্যেই পাহাড়ে ফেরার কথা বিমল গুরুংয়ের। তার আগে সোনাদায় বিমল গুরুংয়ের বিরোধিতায় মিছিল করলেন বিনয় তামাংয়ের অনুগামীরা।

তাদের বক্তব্য, ক্ষমতার লোভেই গুরুং ফিরছেন।বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, কেন পাহাড়ে আগুন জ্বলল? তবে মিছিলে ছিলেন না বিনয় তামাং বা জিটিএ-এর চেয়ারম্যান অনিত থাপা । ৩ বছরের অজ্ঞাতবাস শেষে প্রকাশ্যে এসে বুধবার চমক দেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং।

এদিন হঠাৎই কলকাতায় উদয় হন বিমল গুরুং। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহযোগী রোশন গিরি। এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে গুরুং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার গোর্খাল্যান্ড গঠনের আশ্বাস দিলেও ৬ বছরে সেই দাবি পূরণ হয়নি। তাই আমরা বিজেপির সঙ্গ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে গুরুং বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদর্শ নেত্রী।

আমরা চাই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চাই মমতাকে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে লড়তে চাই। উল্লেখ্য, বিমল গুরুং উধাও হয়ে যাওয়ার পরই পাহাড়ে ভাটা পড়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘গোর্খাল্যান্ড’ আন্দোলনের। ভাঙন ধরে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায়।

দীর্ঘদিনের সহকর্মী রোশন গিরি বিমলের সঙ্গে থাকলেও, সঙ্গ ত্যাগ করেন বিনয় তামাং, অনিত থাপার মতো প্রথম সারির অনেক মোর্চা নেতা। পরবর্তীতে শাসক তৃণমূলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে গোর্খাল্যান্ড টেরিটরিয়াল অ্যাডমনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-র প্রধানের দায়িত্বভার পান বিনয় তামাং।

গোটা পাহাড় থেকেই প্রকাশ্যে কার্যত মুছে যায় বিমলের অস্তিত্ব। সেই পরিস্থিতিতে সটান গোর্খা ভবনে তাঁর ‘উদয়’ পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

বিনয় তামাং নিজে এ বিষয়ে এখনও মুখ না খুললেও, তাঁর সবুজ সঙ্কেতেই যে পাহাড়ে গুরুং বিরোধিতার সুর চড়ছে, তা স্পষ্ট রাজনৈতিক মহলের কাছে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।