স্টাফ রিপোর্টার, রায়গঞ্জ: ফের উতপ্ত হয়ে উঠল দারিভিট বিদ্যালয়৷ মঙ্গলবার সকাল থেকেই নিহত ছাত্র রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মনের পরিবার বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে স্কুল গেটের সামনে৷ এদিন দারিভিট ময়দানে স্কুল খোলা নিয়ে বৈঠকে হওয়ার কথা ছিল৷ সেই বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক, ইসলামপুরের বিডিও-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা৷ কার্যত বিক্ষোভের মুখে পড়ে সকলকেই ফিরে আসতে হল৷

এদিন গ্রামবাসীরা দাবি করে দুই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্ত করতে হবে ও গ্রেফতার হওয়া আটজন গ্রামবাসীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে৷ মঙ্গলবার সভা শুরু হতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ। একসময় উত্তেজনা চরমে উঠলে দাড়িভিট স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধর করতে উদ্যত হয় উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। প্রধান শিক্ষককে গ্রামবাসীদের রোষের হাত থেকে বাঁচাতে ইসলামপুর বিডিওর গাড়িতে তুলে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সুভাষ সরকার নামে এক অভিভাবক জানান, ছাত্রদের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্ত শুরু করতে হবে৷ এবং গ্রেফতার হওয়া আটজন গ্রামবাসীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে৷ এই দুটি কাজ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল চালু করতে দেওয়া হবে না। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত কুমার মাইতি জানিয়েছেন, গ্রামের বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবিগুলি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে আবারও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হতে পারে।

আরও পড়ুন : রথযাত্রা: স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি বিজেপির

সভায় অংশ নিতে আসা ইসলামপুরের বিডিও শতদল দত্ত জানিয়েছেন, আজকের সভার সমগ্র রিপোর্ট ইসলামপুর মহকুমাশাসকের কাছে তুলে ধরা হবে। তবে এদিনও দারিভিটে হাই স্কুল খোলার বিষয়ে কোনও সমাধান সূত্র বেরোল না। বৈঠক অসমাপ্ত রেখেই কোনও মতে বিডিওর গাড়িতে দারিভিট ছাড়লেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ কুন্ডু। দুই ছাত্রের মৃত্যুর পর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে এই স্কুল৷ মঙ্গলবার স্কুল কবে খোলা হবে এই নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হলেও তা ভেস্তে যায়৷ তাই দারিভিট হাই স্কুল কবে খুলবে তা  নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল৷