ঢাকা: পদ্মা সর্বনাশী। পদ্মা রাক্ষুসী। পদ্মা প্রমত্তা। সর্বনাশিনী। এইসব ভয়ঙ্কর নামের পিছনে লুকিয়ে থাকা রুদ্র রূপের পরিচয় বহুবার পেয়েছেন বাংলাদেশবাসী। কিন্তু সোমবার রাত থেকে যেন আরও ভয়ঙ্করী এই নদী।

মাত্র এক রাত্রেই বিপদ সীমার উপর দিয়ে বয়ে চলার ১৬ বছরের নজির ভেঙে দিল পদ্মা। ফলে হাজার হাজার মানুষ শারদোৎসবের আগে গৃহহীন হতে চলেছেন।

ভারতে ফারাক্কার সবকটি লক গেট খুলে দেওয়ায় গঙ্গ-ভাগীরথী-মহানন্দার জলস্তর প্রবল বেড়েছে। বিহারে ভয়ঙ্কর বন্যার কারণে আর জল ধরে রাখা সম্ভব হয়নি ফারাক্কায়।

সোমবার রাত থেকে তাই বাংলাদেশের বিস্তির্ণ এলাকা জলমগ্ন। মঙ্গলবার সকালে পদ্মা বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করে। বেলা গড়াতেই পরেই গত ১৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে ইশ্বরদী উপজেলার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করে। সেই ধাক্কায় পাবনার বেশিরভাগ এলাকা জলমগ্ন। পাবনার জেলাশাসক মহম্মদ কবীর মাহমুদ জানিয়েছেন এই তথ্য। তিনি বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে।

বাংলাদেশ জল উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজান থেকে প্রবল বেগে জল ঢুকতে থাকায় পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় জলস্তরের উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার সকালে সেই স্তর পেরিয়েছে। ২০০৩ সালের পর এমন প্রথম হল। গত ১৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম পদ্মার এত ভয়াবহ রূপ দেখা গিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার একর জমির নানা জাতের ফসল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মায় যে হারে জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে নদীতীরবর্তী এলাকার জন্য অশনি সংকেত। বৃহৎ ক্ষতির আগেই সরকারিভাবে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।

ফারাক্কার সব লক গেট খুলে দেওয়ার কারণেই পদ্মার এই ভয়াবহ রূপ। তার সঙ্গে বৃষ্টি। সবমিলে পদ্মা ফুঁসছে। ভীত বাংলাদেশে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের মানুষ।