মহিষাদলঃ এবার ডলফিন উদ্ধার হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গেঁওখালিতে। মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ গেঁওখালি লোকনাথ মন্দির থেকে কিছুটা দূরে রূপনারায়ণ নদী পাড়ে একটি মৃত ডলফিন পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরই গোটা এলাকার মানুষজন ওই মৃত ডলফিন থেকে দেখতে ভিড় জমান। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় ওই ডলফিন টিকে নদীর পাড় থেকে তুলে স্থলে আনা হয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়নি পুলিশ ও বন দফতরের আধিকারিকরা। তবে ডলফিন উদ্ধারের খবর পেয়ে স্থানীয় মহিষাদল রাজ কলেজের প্রাণী বিভাগের তরফ থেকে ওই ডলফিন থেকে সংগ্রহ করার জন্য ঘটনাস্থলে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা পৌঁছে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে ভুপতিনগরের উদবাদল এলাকায় খালের জলে ওই ডলফিনটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এভাবে ডলফিনকে গ্রামের মধ্যে দেখতে পাওয়ায় উৎসাহের অন্ত ছিল না৷ তবে তারই মাঝে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা জাল নিয়ে মাছটিকে ধরতে চেষ্টা চালায়। যদিও পুলিশ ও বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে চলে আসায় সেই প্রয়াস স্বার্থক হয়নি। তবে ওই পর্যন্তই ছিল প্রশাসনের তৎপরতা।

হাজার হাজার গ্রামবাসীরা খালের পাড়ে ডলফিনটিকে দেখতে এলে সেটি ভয় পেয়ে ক্রমেই আরও গ্রামের ভেতরের দিকে ঢুকে পড়তে থাকে। তবে মাছটিকে নদীতে ফেরৎ পাঠানোর কোনও পরিকাঠামোই ছিল না বনকর্মী বা পুলিশের। তাই তাঁরা প্রায় নীরব দর্শকের মতোই ডলফিনের পেছনে তাড়া করে ফেরেন।

শুক্রবার সন্ধ্যে নাগাদ হাল ছেড়ে দেন বনকর্মী ও পুলিশ। মাছটি তখন চলে গিয়েছে আরও গ্রামের ভেতরে। অবশেষে উদবাদল থেকে প্রায় ৬ কিমি দূরে ডলফিনটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বনকর্মীদের দাবী ছিল, তাঁরা মাছটিকে বড় খালের দিকে তাড়িয়ে এনে ছিলেন। কিন্তু সেটির মৃত্যুর দায় কার? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।

বন দফতরের তরফে দাবি করা হয় যে, খালের ভিতর মৎস্যজীবীরা মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেছিলেন। ওই জালের মাধ্যমে আঘাত পায় ডলফিনটি।

মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ডলফিনটির ছবি

অন্যদিকে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে জেলার বনদফতরের বিরুদ্ধেও। অভিযোগে সরব হন এলাকার বাসিন্দারা। সেই রেশ কাটতে না কাটতে ফের মেদিনীপুরের নদী পাড়ে ভেসে এল ডলফিন। কিন্তু এবারও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হল সেটিকে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV