কলকাতাঃ তিলোত্তমার দক্ষিণ প্রান্ত। এই কেন্দ্রটির নাম একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। কখনও কলকাতা দক্ষিণ-পশ্চিম, কখনও কলকাতা দক্ষিণ-পূর্ব, কখনও কলকাতা পূর্ব আবার কখনও আলিপুর। ৭৭ সাল থেকে এই কেন্দ্রের নাম কলকাতা দক্ষিণ। কংগ্রেসি আমলে এই কেন্দ্রে বেশি জয় পেয়েছে বামেরা, আর বাম আমলে কংগ্রেসিরা। ৯৮ সাল থেকে এই কেন্দ্রে একটানা আধিপত্য তৃণমূলের৷

১৯৯১ থেকে এই কেন্দ্রে শুরু মমতা জমানা। ১৯৮৯ সালে যাদবপুরের মালিনী ভট্টাচার্যের কাছে হেরে ১৯৯১-এ এই কংগ্রেসের প্রার্থী হন তিনি। সেই শুরু, তারপর ২০০৯ সাল পর্যন্ত তাঁর বিজয় রথ চলছে। পরপর ৬টি নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর উপনির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূলের সুব্রত বক্সি।

২০১৪-র নির্বাচনে কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন সুব্রত বক্সি। তিনি পেয়েছিলেন ৪,৩১,৭১৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির তথাগত রায়ের প্রাপ্ত ভোট ২,৯৫,৩৭৭। সিপিএমের নন্দিনী মুখোপাধ্যায় প্রাপ্ত ভোট ২,৭৯,৪১৪ ভোট। কংগ্রেসের মালা রায় পেয়েছিলেন ১,১৩,৪৫৩।

এবার মালা রায়কে প্রার্থী করেছেন মমতা। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। এবারও সিপিএম প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন মিতা চক্রবর্তী।

কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র হল, কসবা, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, ভবানিপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ। এই সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে চারটি কলকাতা জেলায়, আর বাকি তিনটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত। সাতটি বিধানসভাই তৃণমূলের দখলে৷ফলে ফের এই কেন্দ্রটি নিজেদের দখলে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল৷ কিন্তু সিপিএমের নন্দিনী এবং বিজেপির চন্দ্র বসুও যে ভাল লড়াই দেবেন সেটা মেনে নিচ্ছেন ঘাসফুলের একাংশই