কলকাতা: নতুন বছর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে। লাগু হয়েছে ষষ্ঠ বেতন কমিশন। বেতন বৃদ্ধি হলেও বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারের তরফে কিছু না বলায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ রাজ্য সরকারি কর্মীরা। আর এরই মধ্যে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রাইবুনালে শুনানি চলাকালীন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানিয়েছেন, রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। এই পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই সরকারের। মামলায় রাজ্যের এহেন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ রাজ্য সরকারি কর্মীরা।

মামলার শুনানিতে কিশোর দত্ত বলেন, “রাজ্য কীভাবে সরকারি কর্মীদের দেবে তা ঠিক করার এক্তিয়ার কি আদৌ স্যাটের আছে ?” অন্যদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের তরফে আইনজীবী সরদার আমজ়াদ আলি বলেন, “বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্যাটে ফেরত পাঠিয়েছে হাইকোর্ট । ফলে এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন নেই। আসলে রাজ্য এসব করে দেরি করতে চাইছে।” দীর্ঘ শুনানি শেষে এদিনের মতো শুনানি স্থগিত হয়।

উল্লেখ্য, গত বছর জুলাই মাসে ডিএ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক রায় জানায় স্যাট। নির্দেশ যায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষেই। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয় যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের হারে রাজ্য কর্মীদের ডিএ দিতে হবে। বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে। এই রায় আসার পরেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। আদালত নির্দেশে আরও জানায় যে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ মেটাতে বলে স্যাট। তিন মাসের মধ্যে বকেয়া ডিএ কীভাবে মেটানো হবে, সেই সংক্রান্ত নীতি ঘোষণা করতে বলা হয়েছিল।

কিন্তু স্যাটের নির্দেশ আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায় বলেন, “আমার পক্ষে আর দেওয়া সম্ভব নয়। তোমরা সবসময়ই এই দাও, ওই দাও করছ। সবটাই সরকার যেন বিনা পয়সায় করে দেবে!” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সরকারের টাকার অবস্থা ভাল নয়। চাইলেই টাকা পাওয়া যাবে না। প্রত্যেকটা খরচ আগে থেকে ভেবে করতে হবে। আট বছর আগে মাসের এক তারিখে মাইনে হতো না। এখন হয়। আট বছরে গোটা রাজ্য ঘুরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছি”।

ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্যে ষষ্ঠ বেতন কমিশন লাগু হয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসেই এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। সেই মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা