কলকাতা:  কেন্দ্রীয় হারে রাজ্য সরকারকে দিতে হবে ডিএ। গত কয়েকদিন আগে ডিএ মামলার রায়ে এমনটাই জানিয়ে দেয় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল। যা অবশ্যই বড়সড় ধাক্কা মমতা সরকারের। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ না দেওয়া বৈষম্যমূলক হবে বলে জানিয়ে দেয় আদালত। ২০১০-এর পর থেকে একবার মাত্র ডিএ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ বা মহার্ঘভাতার ফারাক রয়েছে ২৯ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মীরা এই বিষয়ে আন্দোলন করেও কোনও লাভ হয়নি। চলছিল মামলা। কিন্তু ঐতিহাসিক রায় দিয়ে স্যাট জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রের হারেই ডিএ দিতে হবে।

গত কয়েকদিন আগে ডিএ মামলায় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের (স্যাট) রায়ের সার্টিফায়েড কপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে জমা পড়েছে। মামলাকারী রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের আইনজীবী মারফৎ সেই কপি আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

স্যাটের নির্দেশের অনুযায়ী, রায়ের কপি হাতের পাওয়ার ৬ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের হারে রাজ্য কর্মীদের ডিএ দেওয়া সংক্রান্ত নীতি তৈরি করতে হবে সরকারকে। ফলে লক্ষাধিক রাজ্য সরকারি কর্মী এখন সেদিকেই তাকিয়ে। সরকার এই বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেন সেদিকেই তাকিয়ে তাঁরা।

যদিও কতটা এই বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নেবে তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। অর্থের সংস্থান থাকলে কর্মচারীদের পাওনাগন্ডা মেটাতে কোনও কার্পণ্য করতেন না, রায়ের পরেই এহেন মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, চাইলেই তো হবে না, এত টাকা পাব কোথা থেকে! তাঁর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে। সরকারি কর্মীদের একাংশ বলছে, আদালতের রায় থাকলেও সরকার দেবে কিনা তা মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যেই ধোঁয়াশা। যদিও হাল ছাড়তে নারাজ রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠন। মামলাকারী সরকারি কর্মীদের কার্যত পালটা হুঁশিয়ারি, মহার্ঘ আমাদের প্রাপ্য। এজন্যে যতদূর যেতে হয় ততদুর যাওয়ারও হুঁশিয়ারি।

কেন্দ্রীয় রাজ্য সরকারি সংগঠনের তরফে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, রাজ্য সরকার কি সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকে নজর রয়েছে। যদি রাজ্য সরকার উচ্চতর আদালতে আপিল করলে আইনি লড়াই তাঁরা লড়বেন। তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মামলাকারীরা। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়ের এক সদস্যের কথায়, রাজ্য সরকারের উচিৎ স্যাটের রায় মেনে নেওয়া।

নবান্নে সূত্রে জানা গিয়েছে, স্যাটের এহেন রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মন্তব্য, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টেও যাব। মামলা লড়তে ফেডারেশন প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন মামলাকারীরা। আগামী একমাসের মধ্যে স্যাটের নির্দেশ মোতাবেক ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। আর তা যদি মানা না হয় তাহলে সংগঠনের তরফে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি মামলাকারী সরকারি কর্মীদের। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।