কলকাতা:  ঝুলে রইল রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা। আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে গেল এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি। তবে তার সঙ্গে গত ২৬ জুলাই ডিএ সংক্রান্ত স্যাট-এর উল্লেখযোগ্য রায় পুনর্বিবেচনায় আর্জিও আদালত গ্রহণ করেছে। ফলে আরও একবার ডিএ পাওয়া কার্যত ঝুলেই রইল রাজ্য সরকারি কর্মীদের।

পড়ুন আরও- টাকা পেতে আধার বাধ্যতামূলক, বড়সড় সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের

গত পাঁচ নভেম্বর রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে ২৬ জুলাইয়ে দেওয়া রায় নতুন করে আরও একবার পুনর্বিবেচনায় জন্য আদালতের কাছে জানানো হয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী রায় ঘোষণার এক মাসের মধ্যে পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা না পড়েনি। আর তা না হওয়ার কারণে সরকারি আবেদনের কপি প্রতিপক্ষকে দিতে হবে বলে জানায় স্যাট।সেই আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রায় পুনর্বিবেচনায় আর্জি গ্রহণ করেছে আদালত।

শুধু তাই নয়, স্যাটের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত আরও একটি আবেদন জমা পড়েছে আদালতে। সেই শুনানিও একই সঙ্গে চলবে বলে ইতিমধ্যে আদালতের তরফে জানানো হয়েছে। আগামী ৮ জানুয়ারি ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করছে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল। আজ মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ ও বিচারপতি সুবেশ কুমার দাসের এজলাসে। ডিএ মামলার রায় কার্যকর না হওয়ায় আদালত অবমাননা মামলা দায়ের করছে কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ। তাদের দাবি, স্যাট-এর রায় মেনে ডিএ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় হারে রাজ্য সরকারকে দিতে হয়ে ডিএ। ডিএ মামলার রায়ে এমনটাই জানিয়ে দিল স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল।

পড়ুন আরও- সেরা সুযোগ, ৫০ হাজার টাকারও কমে কিনে ফেলুন মারুতির চার চাকা

কেন্দ্রীয় হারে ডিএ না দেওয়া বৈষম্যমূলক হবে বলে জানিয়ে দিল আদালত। ২০১০-এর পর থেকে একবার মাত্র ডিএ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ বা মহার্ঘভাতার ফারাক রয়েছে ২৯ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মীরা এই বিষয়ে আন্দোলন করেও কোনও লাভ হয়নি। চলছিল মামলা।

সেই মামলার রায়েই জানানো হয় যে কোনও বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। রায়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, কেন্দ্রের সমান ডিএ দিতে হবে রাজ্যকে। কিন্তু এই বিষয়ে স্যাটের চূড়ান্ত নির্দেশ থাকলেও তা এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কার্যকর করা হয়নি স্যাটের রায়। আর সেই কারণে নতুন করে ফের আদালতের শরণাপন্ন রাজ্য সরকারি কর্মীরা।