কলকাতা: মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ রাজ্য সরকারি কর্মীরা। স্যাট অর্থাৎ স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে শুরু হতে চলেছে আইনি লড়াই। জানা গিয়েছে স্যাটে বকেয়া ডিএ নিয়ে দুটি আবেদন নতুন করে জমা পড়েছে। স্যাটের রায় কার্যকর না করার জন্য কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেটা তালিকা ভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তরফে স্যাটের আগের রায় পুনর্বিবেচনা করার জন্য যে আবেদন জমা পড়েছে। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে স্যাটে।

চলতি মাসের জুলাই মাসে ডিএ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক রায় জানায় স্যাট। নির্দেশ যায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষেই। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয় যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের হারে রাজ্য কর্মীদের ডিএ দিতে হবে। বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে। এই রায় আসার পরেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। আদালত নির্দেশে আরও জানায় যে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ মেটাতে বলে স্যাট। তিন মাসের মধ্যে বকেয়া ডিএ কীভাবে মেটানো হবে, সেই সংক্রান্ত নীতি ঘোষণা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু স্যাটের নির্দেশ আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায় বলেন, “আমার পক্ষে আর দেওয়া সম্ভব নয়। তোমরা সবসময়ই এই দাও, ওই দাও করছ। সবটাই সরকার যেন বিনা পয়সায় করে দেবে!” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সরকারের টাকার অবস্থা ভাল নয়। চাইলেই টাকা পাওয়া যাবে না। প্রত্যেকটা খরচ আগে থেকে ভেবে করতে হবে। আট বছর আগে মাসের এক তারিখে মাইনে হতো না। এখন হয়। আট বছরে গোটা রাজ্য ঘুরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছি”।

তিনি আরও বলেন, “দিতে তো চাই। কিন্তু টাকা আসবে কোথা থেকে? এ বছর ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ শোধ করতে হবে। তার উপর পে কমিশন রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন মন্তব্যের পর থেকে স্যাটের নির্দেশ মানা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল রাজ্য সরকারি কর্মীদের।

অন্যদিকে স্যাটের রায়ের পর ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ে রাজ্য সরকারের কাছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, আগামী পয়লা জানুয়ারি থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের নতুন বেতন হার নির্ধারণের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু বিচারাধীন থাকার কারণ দেখিয়ে ডিএ নিয়ে কোনও ঘোষণা এখনও করেনি সরকার।