কলকাতা:  আমফানের রেশ এখনও কাটেনি। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লন্ডভন্ড চেহারা। যদিও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেনা, এনডিআরএফ সহ সমস্ত সংস্থা ২৪ ঘন্টা, সাতদিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরপরেও এখনও বহু জায়গায় নেই বিদ্যুৎ, পানীয় জল। ফলে স্বভাবতই ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

আর এরই মধ্যে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, ধেয়ে আসছে সাক্লোন নিসর্গ’। যা মানুষের মধ্যে আরও আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে। সবার মুখেই একটাই কথা, আবার নাকি সাইক্লোন আসছে…! কিন্তু সত্যিই কি তাই। কি বলছে হাওয়া অফিস? আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দশ দিনের মধ্যে অন্তত বঙ্গোপসাগরে নতুন কোনও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে জলপাইগুড়িতে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলাতে আজ সোমবার কালবৈশাখী আছড়ে পড়ে। প্রবল গতিতে ঝড় বয়ে যায়। ভারী বৃষ্টিও হয়। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এই সময় কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রত্যেক বছরই হয়ে থাকে। ব্যতিক্রমী ছিল আমফান। এর মানে এই নয় যে আরও একটা সাইক্লোন ধেয়ে আসছে। আপাতত কোনও সাইক্লোন আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা অন্তত তৈরি হয়নি বলেই জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

সমস্যার সূত্রপাত ঘুর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া নিয়ে। আমফানই ছিল, সাইক্লোনের নামের তালিকাতে থাকা শেষ নাম। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় নামের তালিকা। আর তা শেষ হয়েছে আমফানকে দিয়ে। নতুন করে সাইক্লোনের নাম দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৬৯টি নামের তালিকা প্রকাশ করা হয় মৌসম ভবনের তরফে।

গত কয়েকদিন আগেই সেই নামের তালিকা সামনে আসে। আর সেই তালিকার প্রথমেই রয়েছে নিসর্গ। এরপর গতি এবং নিভার। বিভিন্ন দেশ এই নাম দিয়েছে। সেই মতো পরবর্তী সাইক্লোনের নাম হবে নিসর্গ। আর তা বঙ্গোপসাগর কিংবা আরব সাগরে যেখানেই তৈরি হোক না কেন!

এমনকি, সেই ঝড় বাংলার দিকেই যে আসবে তেমন কোনও ধারণা এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়াবিদরা। দেশের যে কোনও দিকে যেতে পারে কিংবা নাও যেতে পারে। তবে আলিপুর হাওয়া অফিসের কথা মতো, আপাতত কোনও সাইক্লোন তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস তৈরি হয়নি এমনকি, আগামী ১০ দিনেও তা তৈরি হবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। তা বর্ষাকে কার্যত ঠেলে দিতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প