নয়াদিল্লি: একটুর জন্য বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেল গুজরাত৷ উপকূলবর্তী এলাকার ওপর দিয়েই বেরিয়ে গেল সাইক্লোন বায়ু৷ তবে তৈরি ছিল গুজরাত৷ ইতিমধ্যেই ৫৬০টি গ্রামের বিদ্যুত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে৷ তবে শুক্রবারের মধ্যে বিদ্যুথ পরিষেবা স্বাভাবিক হবে বলে জানানো হয়েছে৷ মূলত বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে দক্ষিণ গুজরাত ও সৌরাষ্ট্রে৷

এরই মধ্যে, অল ইণ্ডিয়া ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভেলজিভাই মাসানি জানান, সরকার যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা প্রশংসা যোগ্য৷ সাধারণ মৎস্যজীবীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য যেভাবে সতর্কতা জারি করা হয়েছে তা কাজে লেগেছে৷ প্রায় ৮০০০ মৎস্যজীবীকে সৌরাষ্ট্র এলাকা থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে৷ ১২০০ মাছ ধরার নৌকাকে মাঝ সমুদ্র থেকে ফেরত আনা হয়েছে৷ ফলে বড়সড় ক্ষতি আটকানো গিয়েছে৷

বৃহস্পতিবার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ গুজরাতের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তিনি৷ বিশকেক থেকে ফোন আসে এদিন গুজরাতে৷ এসসিও সামিটে যোগ দিতে আপাতত প্রধানমন্ত্রী কিরঘিজস্থানে৷ গুজরাতকে যাবতীয় সাহায্য করতে কেন্দ্র প্রস্তুত বলে জানান তিনি৷

আরও পড়ুন : তিন তালাক বিলের বিরোধিতা করবে নীতীশ কুমারের জেডি(ইউ)

এদিকে, বুধবার থেকে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষকে সরানো হয়েছে৷ তৈরি রয়েছে ভারতীয় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা৷ বলা হয়েছিল ঘূর্ণিঝড়ের জেরে অন্তত ৪০০ বিমানের পরিষেবায় প্রভাব পড়তে পারে। সৌরাষ্ট্র, কচ্ছ সহ বিভিন্ন জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। গুজরাতের বিভিন্ন জায়গায় এই ঝড়ের প্রভাবে মোট ছ’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

নর্মদায় দু’জন, তাপিতে দু’জন, দাং এলাকায় একজন ও গান্ধীনগরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে ৩ লক্ষ ১০ হাজার মানুষকে। নৌকা, গাছ কাটার মেশিন সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে এনডিআরএফের ৫২টি টিম। সমুদ্রে অপেক্ষা করছে ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর ১০ কলাম এয়ারক্রাফট ও যুদ্ধজাহাজ।

মহারাষ্ট্র ও গোয়ায় সাইক্লোন বায়ুর প্রভাবে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। মহারাষ্ট্র সরকার সব সমুদ্র সৈকত বন্ধ রাখে৷ বুধবার সন্ধে ৬ টা থেকেই বহু ট্রেন বাতিল করে দিয়েছে রেল। গুজরাত থেকে ছাড়ে এমন ১১০ টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আগামী দু’দিন বাতিল থাকবে সেসব ট্রেন। ভারতীয় রেল জানিয়েছে, বাতিল ট্রেনের বদলে চালানো হবে কিছু স্পেশাল ট্রেন। বুধবার সন্ধে ৬টা থেকে বন্ধ হয়েছে ট্রেন। ১৪ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ৬থেকে ১০ টি কোচ নিয়ে স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।