নয়াদিল্লি: শক্তি বাড়াচ্ছে সাইক্লোন Vayu৷ উত্তরের দিকে ক্রমশ এগিয়ে এই Vayu পোরবন্দর এবং মাহুওয়ার মধ্য দিয়ে গুজরাত উপকূল অতিক্রম করার জন্য এগোচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই আরব সাগরের উত্তর-পূর্ব সংলগ্ন এলাকা এবং পূর্ব-মধ্যে সাইক্লোন Vayu-র গতিবেগ ঘন্টায় ১৪০-১৫০ কিলোমিটার৷

আগামীকাল অর্থাৎ ১৩ জুন ঘন্টায় ১৪০-১৫০ কিলোমিটার বেগেই দিউ এলাকাসহ আশেপাশে আছড়ে পড়বে এই সাইক্লোন৷ লাক্ষাদ্বীপের কাছে অবস্থান করছে সাইক্লোন Vayu৷ বৃহস্পতিবার সকালেই এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি৷ বুধবার থেকেই ঝোড়ো হাওয়ার দাপট শুরু হয়েছে৷ সঙ্গে ভারি বৃষ্টি৷ মৌসম ভবন জানাচ্ছে গুজরাতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার ১১০ কিমি বেগে ঝড় বইবে, সঙ্গে থাকবে বৃষ্টি৷ সতর্ক করা হয়েছে উপকূলীয় এলাকা সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছকে৷

এদিন সাইক্লোন Vayu সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্যুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ এছাড়াও কেন্দ্র, গুজরাতের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করে চলেছে বলেও খবর৷ সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে৷

ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে৷ উপকূলীয় এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গুজরাতে৷ এদিকে, কোঙ্কন উপকূলের পালগাহার, থানে, মুম্বই, রায়গড়, রত্নগিরি, সিন্ধুদুর্গের মতো কোস্টাল এলাকা পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে৷ দুদিন এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানানো হয়েছে৷ ১২ ও ১৩ তারিখ এই উপকূল এলাকাগুলির সৈকত বন্ধ রাখা হবে বলে খবর৷

আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দিউ, পোরবন্দর, কান্দলা, মুন্দ্রা ও ভাবনগর পর্যন্ত বিমানের উড়ান আগামিকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে৷

সূত্রের খবর, Vayu-র প্রভাবে গুজরাতের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি হবে৷ নৌসেনা, কোস্ট গার্ড, সেনাকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের দক্ষিণপূর্বে আরব সাগর, লাক্ষাদ্বীপ এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ তালিকায় রয়েছে কেরল এবং কর্ণাটকের উপকূলীয় এলাকাও৷

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে উচ্চস্তরীয় বৈঠক করেন৷ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইএমডি এবং এমএইচএ-র সিনিয়র আধিকারিকরাও৷ এমএইচএ-র একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যোগাযোগ রাখছে৷ যোগাযোগ রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গেও৷ ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স ২৬ দল প্রস্তুত রেখেছে৷ বোট, গাছ কাটার ব্যবস্থা, টেলিকম পরিষেবাসহ আরও বেশ কিছু দিকে নজর রেখেছে৷