টোকিও:  ঝড়ের চেহারা যে ভয়ংকর হতে চলেছে, তা আগেই অনুমান করেছিলেন আবহাওয়া বিদরা। আর সেই আশঙ্কা সত্যি করেই কর্কশ চেহারা নিয়েছে টাইফুন হাগিবিস। ভয়ঙ্কর ঝড় আছড়ে পড়েছে সেখানে। ভয়ঙ্কর এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে দেশে। কার্যত বিধ্বস্ত জাপান।

এই ঝড়ে জাপানের মূলত আটটি অঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অঞ্চলে অন্তত ৩৭ জন নিহত ও ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে জাপানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে অন্তত ৩১ জন নিহত, ১৫ জন নিখোঁজ ও ১৮৬ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স।

দেশটির মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলির অধিকাংশ এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। আটকে পড়েছেন বহু মানুষ। আর তাঁদের উদ্ধারে ইতিমধ্যে ১০ হাজারেও বেশি লোক উদ্ধারের কাজে অংশ নিয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এই টিম। অন্যদিকে ভয়ঙ্কর এই ঝড়ের পরে বন্যা ও ভূমিধসে যারা আটকে পড়েছেন তাদের উদ্ধারে হাজার হাজার পুলিশ আধিকারিক, দমকল কর্মী, কোস্টগার্ড ও সামরিক বাহিনীর সদস্য কাজ করে চলছেন। অন্যদিকে প্রবল ঝড়ে জাপানে ট্রেনের একটি ডিপো ডুবে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ডুবে গিয়েছে ১০টির বেশি বুলেট ট্রেন। প্রত্যেকটি ট্রেনের মূল্য তিন কোটি ডলার বলে বিবিসি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, বন্যার কারণে যেসব বাড়ি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যারা নিখোঁজ রয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। সোমবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ৯২ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন ছিল। জল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে এক লাখ ২০ হাজার বাড়ির বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।

হাগিবিস সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে তাণ্ডব চালানোর সময় ৭০ লাখেরও বেশি লোককে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু মাত্র ৫০ হাজার লোক জরুরি কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাকোনে শহরে ৪৮ ঘণ্টায় তিন ফুটের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা জাপানের নতুন রেকর্ড। নাগানোর চিকুমা নদীর জল উপচে আবাসিক এলাকাগুলিতে প্লাবিত হয়েছে। গত মাসে ফাসাই নামের আরেকটি টাইফুনের তাণ্ডবে জাপানে ৩০ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলোর পুনর্নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি টাইফুনের কবলে পড়ল দেশটি।