কলকাতা: দশ বছর আগে আয়লার ভয়ঙ্কর স্মৃতি উসকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শুধু তাই নয়, যে হারে শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি তাতে আয়লাকে ছাপিয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আপাতত উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও ইতিমধ্যেই অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার বার্তা দিয়েছে বুলবুল। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, এতটাই শক্তি সঞ্চয় করেছে বুলবুল, যে প্রাথমিকভাবে শনিবার মধ্যরাতে আছড়ে পড়ার কথা থাকলেও তার আগেই অর্থাৎ শনিবার সন্ধে কিংবা তার পরেই স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে বুলবুল।

শক্তিশালী হয়ে ওঠার পাশাপাশি ক্রমশ তার গতিপথ বদলাচ্ছে সাইক্লোন বুলবুল। হাওয়া অফিস জানিয়েছে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে চলা এই ঘুর্ণিঝড় ওড়িশার কাছাকাছি পৌঁছে ফের বদল করবে তার গতিমুখ। পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করার কথা বুলবুলের। এরপর উপকূলবর্তী অঞ্চলে তান্ডব চালানোর পর এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে বলে জানা গিয়েছে। গতিবেগ ঘন্টায় ১১০ থেকে ১১৫ কিলোমিটার থাকলেও ১৩০-১৩৫ কিলোমিটার বেগেও তান্ডব চালাতে পারে এটি। অবস্থা এতটাই বেগতিক যে মধ্যরাতে হানা দেওয়ার কথা থাকলেও মনে করা হচ্ছে তার আগেই আছড়ে পড়বে এটি।

বুলবুলের প্রভাবে শনি ও রবিবার কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টি হবে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় নবান্নে ও পুরসভায় খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। রয়েছে হেল্প-লাইন নম্বরও। ইতিমধ্যেই আগামী শনি ও রবিবার পুরকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। তাছাড়া ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে কন্ট্রোল রুম। পুরসভার কন্ট্রোল রুমের তদারকি করবেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেই।

বুলবুলের দাপট শুক্রবার সকাল থেকেই মুখ ভার কলকাতার আকাশের। বেলা বাড়তেই বৃষ্টি নামে শহরে। হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছে শনিবার থেকেই ভারী বৃষ্টি নামবে কলকাতায়। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় সমুদ্র রুক্ষ থেকে অতিরুক্ষ হবার আশঙ্কা করা হয়েছে। যার কারণে মৎস্যজীবীদের উপকূলবর্তী এলাকায় যেতে বা সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে। এছাড়া যে মৎস্যজীবীরা ইতিমধ্যে সমুদ্রে রয়েছেন, তাদের অতি দ্রুত উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে