নয়াদিল্লি:  শক্তি পাকিয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। রবিবার দুপুরের আগেই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। আবহাওয়া দফতর মনে করছে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ থেকে বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝে স্থলভাগের প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। অন্যদিকে আজ শুক্রবারই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় থেকে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বুলবুল। রবিবার ঘন্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিমি গতিবেগে সাগরদ্বীপে এই সাইক্লোন আছড়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই মুহূর্তে কলকাতা থেকে ৫৩০ কিমি দূরে রয়েছে এই ঘুর্নিঝড়। প্রবল শক্তি নিয়ে যখন আছড়ে পড়বে এই ঘুর্নিঝড় তখন উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বাড়ি ভেঙে পড়া থেকে একাধিক প্রাণহানি হওয়ারও আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যদিও দ্রুত যাতে উদ্ধারকাজ চালানো যায় সেই কারণে ইতিমধ্যে এনডিআরএফ অর্থাৎ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সদস্যদের তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও কোস্টগার্ডকেও তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দ্রুত যাতে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেজন্যে কোস্ট গার্ডের জাহাজ তৈরি রয়েছে।

শনিবার সকালেই সম্ভবত উপকূলে আছড়ে পড়েব ঘূর্ণীঝড় বুলবুল। আর তার জন্য পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশার মত রাজ্যগুলিকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র নিশ্চিত করেছেন, যে রাজ্যগুলি যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। যাতে সবথেকে কম ক্ষতি হতে পারে, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই সাইক্লোন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিন কেন্দ্রের বৈঠকে আবহাওয়ার সব আপডেট জানানো হয়েছে। পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ওড়িশার উপর দিয়ে ৭০-৮০ কিলোমিটার বেগে বইবে ওই সাইক্লোন। সঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র হয়ে উঠবে উত্তাল। পশ্চিমবঙ্গেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এদিন ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও আন্দামান-নিকোবরের আধিকারিকরা। অন্যদিকে, সাইক্লোন সতর্কতা হিসাবে আজ শুক্রবার জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। কলকাতা পুরসভায় এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত কীভাবে এই সাইক্লোন মোকাবিলা করা যায় সেজন্যেই এই বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।