স্টাফ রিপোর্টার, (পূর্ব মেদিনীপুরে): বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। শনিবার মধ্যরাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গ সহ সারা রাজ্যের উপর আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এদিকে শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিনবঙ্গের বিভিন্ন জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। আর সেই ঝড়বৃষ্টি কার্যত পাকা ধানে মই দিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের ধান চাষে।এদিকে বৃষ্টির ফলে মাথায় হাত পড়েছে জেলার কৃষকদের। যে হারে এবছর আমন ধানের চাষের শুরু থেকে ক্ষেপে ক্ষেপে বৃষ্টি হয়ে চলেছে তাতে কতটা লাভবান হবেন তা নিয়ে চিন্তিত কৃষকেরা।

বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি। যার জেরে এখন পর্যন্ত এই জেলার প্রায় ৯০ ভাগ জমি জলের তলায় পড়ে রয়েছে। ফলে এইবছর ধানের দাম বাড়ার সম্ভবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দূর্গা ও কালিপুজোর পরের বৃষ্টির জল শুকোতে না শুকোতে এই বৃষ্টি ।ফলে কার্যত দিশেহারা জেলার কৃষক মহল।এই মুহূর্তে আবহওয়া ঠিক না হলে আরও সমস্যায় পড়বেন চাষিরা।

তবে আবহওয়া ঠিক হলেও কতটা ধান গোলায় উঠবে তা নিয়ে অনিশ্চিত কৃষকরা। দুদিনের নিম্নচাপের বৃষ্টির ফলে এখন পর্যন্ত বহু জমিই জলের তলায় পড়ে রয়েছে। নিম্নচাপের জেরে এইবছর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জেলার আমন ধান চাষে। পূর্বমেদিনীপুর কৃষি দফতরের দাবি,এইভাবে বৃষ্টির খামখেয়ালিপনা চলতে থাকলে ক্ষতি আরও হবে। কালীপুজোর পরের বৃষ্টির জল শুকিয়ে নতুন উদ্দামে কৃষকরা চাষ শুরু করলেও তা আবার জলে একাকার হয়ে গিয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল,নন্দকুমার,ময়নার আমন চাষিরা জানান,টানা বৃষ্টিতে বহু পান এখনও পর্যন্ত মাঠে পড়ে রয়েছে।আবহওয়ার পরিবর্তন না হলে ক্ষতির পরিমান আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি ধানের যোগান দেয় দুই মেদিনীপুর। তবে এইবছর বেশি ক্ষতি হয়েছে দুই মেদিনীপুরেই। ফলে এই বছর ভিনরাজ্য থেকে ধান আমদানি করতে হতে পারে বলে মনে করছেন এই জেলার কৃষকরা।

মহিষাদলের এক চাষির কথায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে গাছের গোড়ায় জল জমে গিয়েছে।ফলে ধান জলের তলয় পড়ে রয়েছে।ধানের দাম বাড়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ফলে প্রকৃতিই একমাত্র ভরসা মানুষের। প্রকৃতির উদয় হলেই উদয় হবে এই শস্য শ্যামলা গ্রাম বাংলার।